পাকিস্তানকে কৃতিত্ব ট্রাম্পের !

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনীরকে নিজেই কৃতিত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ইসলামাবাদে কি ইরান–ইজরায়েলের দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) অনির্দিষ্টকালের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ওয়াশিংটনের শর্তে তারা কোনও যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও বাস্তব পরিস্থিতি বেশ জটিল।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরে মতভেদ স্পষ্ট। সেই কারণেই একটি ঐক্যবদ্ধ শান্তি প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে এবং সামরিক বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এই অবস্থান নিয়েই আপত্তি তুলেছে তেহরান। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির নামে চাপ সৃষ্টি করছে আমেরিকা।

এই সমীকরণে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে পাকিস্তানের ভূমিকা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে (Shehbaz Sharif) এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনীরকে (Asim Munir) নিজেই কৃতিত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদের অনুরোধেই আপাতত যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে কূটনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে পাকিস্তান।

তবে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Ismail Baghaei) জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে যোগদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর এই মন্তব্যে আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়ও বেড়েছে।

এর মধ্যেই উত্তেজনা বাড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীতে করা মার্কিন পদক্ষেপ। সম্প্রতি ইরানের দুটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বাঘাই অভিযোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপই প্রমাণ করে যে আমেরিকার শান্তি আলোচনায় প্রকৃত সদিচ্ছা নেই।

অন্যদিকে, পাকিস্তান জানিয়েছে—তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সে দেশের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হলেও প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়ে কোনও নিশ্চিত বার্তা মেলেনি।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বহাল রয়েছে। ইসলামাবাদের বৈঠক আদৌ হবে কি না, আর হলেও তাতে সব পক্ষ যোগ দেবে কি না—এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে।