পরমাণু পরীক্ষায় ৪ দেশ, দাবি ট্রাম্পের

শুধু পাকিস্তানই নয়, ট্রাম্পের দাবি রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়াও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক: ডোনাল্ড ট্রাম্প। নামের মধ্যেই যেন দামামা। তাঁর আরোপ করা শুল্কনীতিতে প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দেশে। এবার আরও এক বোমা ফাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ৩৩ বছর ধরে আমেরিকায় এই ধরনের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ কেন সেই নীতি থেকে সরে আসতে চাইছেন ট্রাম্প? পরীক্ষার অর্থ কী? এতে কি পরীক্ষামূলক ভাবে বিস্ফোরণও ঘটানো হতে পারে? ট্রাম্পের নির্দেশের পর থেকেই এই সংক্রান্ত জল্পনা চলছিল। অবশেষে তার ব্যাখ্যা এল। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পাকিস্তান গোপনে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে বলে দাবি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অপারেশন সিঁদুর ও ভারত-পাকিস্তান চরম দ্বন্দ্বের আবহে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উত্তেজনার পারদ চড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। শুধু পাকিস্তানই নয়, ট্রাম্পের দাবি রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়াও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে।

ট্রাম্পের দাবি রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া
পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে
রাশিয়া চালাচ্ছে, চিনও পরীক্ষা চালাচ্ছে
কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনও কথা বলে না।
নিশ্চিতভাবেই উত্তর কোরিয়াও পরীক্ষা করছে
তারা অনেক সময় মাটির নিচে পরীক্ষা করে
যেখানে মানুষ জানতেও পারে না ঠিক কী হচ্ছে
শুধুমাত্র একটু কম্পন অনুভূত হয়
এর থেকে বেশি সাধারণ মানুষ কিছু জানতে পারে না

এই যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্পের দাবি এই অবস্থায় আমেরিকারও এটা করা উচিত। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ঘোষণা করেছে যে তারা পরীক্ষা করবে। উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত পরীক্ষা করছে। অন্যান্য দেশও করছে। আমরাই কেবল এটি করছি না, এবং আমি চাই না যে আমরাই একমাত্র দেশ হই যারা পরীক্ষা করে না। রাশিয়া ও চিনের মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলি পরমাণু পরীক্ষা করছে ধরে নিয়েই আমেরিকাতেও পরমাণু পরীক্ষা করার কথা ভেবেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই আবহেই আলতো করে অন্য দেশগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর হুমকি, অন্য যে কোনও দেশের তুলনায় আমেরিকার কাছে অনেক বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে।

চিন বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে দামাদাম কিছু বলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, আর তারা চুপটি করে বসে থাকবে। তাতো হতে পারে না। ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে দেয় চিনের বিদেশ মন্ত্রক। জানিয়েছেন.
চিন দায়িত্বশীল পরমানু শক্তিধর দেশ
আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া পরমানু অস্ত্রের পরীক্ষা করে না
চিনের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা
পরমানু অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তাঁরা

ট্রাম্প যে ৪ দেশের নাম করেছেন, তার মধ্যে পাকিস্তান বাদে বাকি তিন দেশ বাণিজ্যিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দী। ট্রাম্পের দাবি নিয়ে শুরু শোরগোল। যদিও এখানেই থামেননি ট্রাম্প। সময় বুঝে নিজের ক্রেডিটও নেন তিনি। বলেন, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হতে চলা যুদ্ধ থামিয়েছেন তিনি। তাঁর পদক্ষেপ না থাকলে, লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেত বলে মনে করেন তিনি। তবে এ নিয়ে মুখ খোলেনি দিল্লি। ট্রাম্প যখন এই কথা বলছেন, অন্যদিকে ভারতের আর্মি প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যে অন্য ইঙ্গিত। তিনি বলেন.. ভবিষ্যতে বেশ কিছু অনিশ্চিত জিনিস হতে চলেছে। তাঁর বক্তব্যতে উঠে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম। বলেন. এর পরে যা হতে চলেছে. তার সম্পর্কে ট্রাম্প ও জানেন না। আকার ইঙ্গিতে তাহলে ভারতের আর্মি প্রধান কি এটাই বলতে চাইলেন যে ট্রাম্পের ইমেজ এমন হয়ে গিয়েছে, যে তিনি আজ কী বলছেন. আবার কাল কী বলবেন তার ঠিক নেই। মানে প্রথমে শুল্কযুদ্ধ। তার পাল্টা বিরল খনিজের রফতানিতে তালা। সবশেষে সংঘাত থামাতে সমঝোতা।

মার্কিন-চিন ‘ঠান্ডা লড়াই ২.০’কে এভাবেই ব্যাখ্যা করছেন দুনিয়ার দুঁদে কূটনীতিকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এতে বেজিঙের হাতে পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে আগামী দিনে দু’তরফে আরও তীব্র হতে পারে সম্পর্কের টানাপড়েন। মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান, এমনই, যে আজ কারোর সঙ্গে মিত্রতা, তো কালই তার সঙ্গে শত্রুতা। এমনই মনে করছে আর্ন্তজাতিক বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্পের কথা মতো রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানে যদি পরমানু পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। এবং তার পাল্টা হিসাবে যদি ট্রাম্প ৩৩ বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার ফের নির্দেশ দেন. তাহলে,কি হতে চলেছে বড় সড় কোনও ঘটনা। বা সহজ ভাষায় যাকে যুদ্ধ বলা যায়। তাই কি আগে ভাগে নিজের মতো নিজেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। উঠছে প্রশ্ন।