ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: গাজা ভূখণ্ডে ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলছিল সংঘর্ষবিরতি। কিন্তু এরপরেও দু’পক্ষই একে অন্যের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে বহুবার। এই পরিস্থিতিতে হামাসকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামাসকে ‘অত্যন্ত হিংস্র’ একটি গোষ্ঠী বলে চিহ্নিত করেছেন ট্রাম্প। হামাস যদি নিজেদেরকে সংযত না করে, তাহলে তাদের নির্মূল করে দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার হামাস প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ওরা খুব হিংস্র জনগোষ্ঠীর লোক। হামাস সবসময়ই খুব হিংস্রভাবে নিজেদের অবস্থান রেখেছে। কিন্তু এখন আর ইরান তাদের পিছনে থেকে তাদেরকে সমর্থন করে না। এইবার ওদের নিজেদেরকে শুধরাতে হবে। ওরা না শুধরালে ওদের নির্মূল করে দেওয়া হবে।”
গাজায় শান্তি পরিস্থিতি থাকছে কিনা সেটা দেখার জন্য সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে আমেরিকার একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও ইজরায়েলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়ের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে হামাসের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতায় ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বোঝাপড়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু রবিবারই মার্কিন গোয়েন্দারা ট্রাম্পকে জানান, হামাস নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে। যদিও হামাস এই দাবিকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে। তবে এই জল্পনার ভিত্তিতেই ইজরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করে বলে দাবি হামাসের।
সোমবার জোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হামাসে হিংসা কমবে বলে আশাবাদী ছিলেন তিনি। আর সেই কারণের জন্যই সংঘর্ষবিরতি করিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু যদি এইভাবে প্রতিনিয়ত হামলার পরিকল্পনা চলতে থাকে তাহলে তার উপযুক্ত জবাব দেবেন ট্রাম্প, এমনটাও জানান তিনি।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “হামাস যদি এই পরিস্থিতি বারবার সৃষ্টি করতে থাকে, তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেব। খুব দ্রুত এবং বেশ আক্রমণাত্মক ভাবেই তা করা হবে। আমি যদি ইজরায়েলকে বলি, তা হলে ওরা দু’মিনিটের মধ্যে চলে যাবে। আমি ওদের (ইজরায়েলকে) বলতেই পারি, যাও গিয়ে বিষয়টা দেখে নাও। কিন্তু আমি এখনও তা বলিনি। আমি ওদের (হামাসকে) একটু সুযোগ দিতে চাই।”