ডোনাল্ড ট্রাম্প : ওরা এমন একটা কাজ করেছে, যা অসাধারণ। আমাদের একটি বড় এবং মূল্যবান উপহার দিয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত কি শেষের পথে? সেই জল্পনাই ফের উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান নাকি ইতিমধ্যেই ‘বড় মূল্যের উপহার’ দিয়েছে আমেরিকাকে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সম্ভাব্য সমঝোতার দিকে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই ‘উপহার’ তেল-গ্যাস এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে। যদিও ঠিক কী দেওয়া হয়েছে, তা খোলসা করেননি তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “ওরা এমন একটা কাজ করেছে, যা অসাধারণ। আমাদের একটি বড় এবং মূল্যবান উপহার দিয়েছে।” তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, আমেরিকা ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গেই আলোচনা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘদিন ধরে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই পথেই বিশ্বে পৌঁছয়। ফলে প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বহু দেশ জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র না-রাখার বিষয়ে আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। পারমাণবিক অস্ত্র না-রাখার ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছে।” যদিও অতীতে এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে। ইরানের অবস্থান ছিল, তারা নিজেদের শর্তেই কোনও চুক্তিতে রাজি হবে।
একইসঙ্গে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই যুদ্ধে কার্যত ‘জয়’ পেয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের শাসন কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “ওদের পুরনো নেতারা আর নেই। নতুন নেতৃত্ব এসেছে, কিন্তু তাঁদের উপরে আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।” যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আপাতত পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা বন্ধ রাখবে মার্কিন বাহিনী। সেই সময়ই তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরান এই দাবি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের বক্তব্য, সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। বরং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সীমিত বার্তা আদানপ্রদান হয়েছে মাত্র।
তবে এই পরস্পরবিরোধী দাবির মাঝেও ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে—সম্ভবত যুদ্ধবিরতির পথে এগোচ্ছে পরিস্থিতি। এখন দেখার, এই কূটনৈতিক ইঙ্গিত বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং আদৌ কোনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয় কি না।