ইরানে পরমাণু বোমা ফেলতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প! সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল বিশ্ব?

ইরানে পরমাণু বোমা ফেলতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প! ফাঁস হল হোয়াইট হাউসের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে-
রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রেক্ষাপট:-
২০২০ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার কয়েক দিন পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) তখন রিপোর্ট দিয়েছিল যে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তথ্য জানার পর ট্রাম্প ইরানের মূল পরমাণু কেন্দ্রে (নাতানজ) সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
সেনাপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ
ট্রাম্প যখন হামলার প্রস্তাব দেন, তখন উপস্থিত শীর্ষ কর্মকর্তারা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এদের মধ্যে ছিলেন:
মার্ক মিলি: তৎকালীন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান (সেনাপ্রধান)।
মাইক পেন্স: তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
মাইক পম্পেও: তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ক্রিস্টোফার মিলার: ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সচিব।
তাঁদের যুক্তি ছিল:
১. এই ধরনের হামলা খুব দ্রুত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
২. মেয়াদের শেষ কয়েক সপ্তাহে এমন পদক্ষেপ বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হবে।
৩. ইরানের পক্ষ থেকে এর পাল্টা জবাব আমেরিকার স্বার্থের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্ব কি সত্যিই রক্ষা পেয়েছিল?
বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল মার্ক মিলি এবং অন্য কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, এই মুহূর্তে হামলা চালানো হবে একটি কৌশলগত বিপর্যয়। তাঁরা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, একটি ছোট ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও মধ্যপ্রাচ্যে একটি অনিয়ন্ত্রিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করতে পারে। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
যদিও “পরমাণু বোমা” সরাসরি ফেলার চেয়ে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় প্রথাগত সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা বেশি হয়েছিল, তবে এর পরিণাম পরমাণু যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারত। সেনাপ্রধান এবং ক্যাবিনেট সদস্যদের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত ওইসময় ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল বলে মনে করা হয়।