মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন শপথ নিয়েছেন যেভাবেই হোক রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পরিসমাপ্তি তাঁর হাতেই হবে। তাঁর উদ্যোগেই সম্ভবত মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- টানা তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি কি আসন্ন? অবশেষে বোধহয় বৈঠকে বসতে চলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভলোদিমির জেলেনস্কি। যদিও ওই বৈঠকে কোনও আগাম শর্ত চাপানো যাবে না। সোমবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরে তা স্পষ্ট করে দিলেন জেলেনস্কি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউক্রেনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। ইউরোপীয় দেশগুলি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইউক্রেনকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তির সম্ভাবনায় সবাই খুশি, মন্তব্য ট্রাম্পের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে সোমবার জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসে যান তাঁর সঙ্গে ছিলেন একাধিক ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান। ওয়াশিংটনে ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার পর ওই বৈঠক শুরু হয় বলে খবর। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, প্রয়োজনে ইউরোপীয় দেশগুলির নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনও সামরিক পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিতে আমেরিকা তৈরি। শুধু তাই নয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। এদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কাঁধে হাত রাখতেও দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

ট্রাম্প বলেন, বৈঠক শেষে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এর পাশাপাশি, জেলেনস্কি এবং পুতিনের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই সেই বৈঠকের তোড়জোড় শুরু করা হচ্ছে। সেই বৈঠক হওয়ার পর, একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করা হবে সেখানে দুই রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন এবং তিনিও থাকবেন।

যদিও জেলেনস্কির বক্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনও ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তু ইউক্রেন তবে ওই বৈঠকের জন্য কোনও আগাম শর্ত চাপানো চলবে না। কারণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মনে করেন নিঃশর্ত ভাবে দুই দেশের বৈঠকে বসা উচিত। যুদ্ধ থামানোর এই উদ্যোগকে আরও প্রসারিত করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, তিনি এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য কোনও শর্ত আরোপ করতে চান না। কারণ, তিনি শর্ত চাপালে পুতিনও নিজস্ব শর্ত নিয়ে হাজির হবেন। তবে জেলেনস্কি এই বিষয়ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতি কেমন হয়, তার উপর নির্ভর করবে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি।