ট্রাম্পের শুল্ক বেআইনি! মার্কিন আদালতের রায়ে বিপাকে প্রেসিডেন্ট?

২৭ অগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক নেওয়া শুরু করছে ট্রাম্পের আমেরিকা। ছা়ড় পাচ্ছে একমাত্র ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিরল খনিজ এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো সামগ্রী। এবার এই শুল্ককেই বেআইনি ঘোষণা মার্কিন আদালতের।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি এই মুহূর্তে কিছুটা হলেও বিপাকে? সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া কিন্তু যাচ্ছে না কারণ যে শুল্ক নিয়ে এত কিছু করলেন তিনি, তাঁর নিজের দেশের আদালতই সেই শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করেছে। ফলে অনেকেই বলছেন মুখ পুড়ল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

বলা যায় নিজের দেশেই বড় ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আদালত জানিয়ে দিল, বিভিন্ন দেশের উপরে চাপানো তাঁর অধিকাংশ শুল্কই বেআইনি। যদিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি কারণ এখনই অবশ্য তাঁর আরোপিত শুল্কে স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত।

শুক্রবার আমেরিকার আপিল আদালতে বিচারপতিরা রায় দেন। আদালতের তরফে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাতে ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। তবে আগামী অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক সমস্ত দেশের উপরে কার্যকর থাকবে। এই সময়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন শুল্ক নিয়ে লড়াই করতে।

যদিও ট্রাম্প কিন্তু এই রায়ে খুব একটা ঘাবড়াচ্ছে না। বরং ট্রাম্প আপিল আদালতের এই আদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে স্পষ্ট বলেছেন, সমস্ত শুল্ক জারি থাকবে। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে ভুল এবং পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করে আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে। সুপ্রিম কোর্টের সাহায্যে, আমরা আমাদের জাতির স্বার্থে শুল্ক জারি রাখব। সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, যদি শুল্ক তুলে নেওয়া হয়, তাহলে সেটা আমাদের দেশের জন্য একটা বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে আমরা আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ব। আমাদের শক্তিশালী হতে হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্ক সিদ্ধান্তকে তুলোধোনা করেছেন আমেরিকার বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ। তাঁর কথায়, ইঁদুর হয়ে হাতিকে আক্রমণের মতো আচরণ করছেন ট্রাম্প। এহেন কাণ্ডে ভারত খেপে গিয়ে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে বলেই মনে করছেন রিচার্ড।