ওবিসি সংরক্ষণে জোড়া সংশোধনী বিল পাশ

বিধানসভায় তৃণমূলের ওয়াকআউট, পক্ষে ১৮৬ ভোট

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল। তবে বিলটিকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, ভোটাভুটি এবং শাসক-বিরোধী শিবিরের অবস্থান ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা।

সোমবার বিধানসভায় বিল দুটি পেশ করেন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি ডিভিশন বা ভোটাভুটির দাবি জানান। স্পিকার রথীন্দ্র বসু সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬টি, বিপক্ষে ১৭টি। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছ’জন বিধায়ক।

ভোটাভুটির আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিধায়কেরা কক্ষত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অধিকাংশ বিধায়ক বেরিয়ে গেলেও কয়েকজন সময়মতো বেরোতে না পারায় পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তাঁদের বেরিয়ে যেতে হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের ভর্ৎসনাও করেন স্পিকার। তবে তৃণমূলের ছয় বিধায়ক শেষ পর্যন্ত কক্ষত্যাগ করেননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাইরন বিশ্বাস, মোশারফ হোসেন, কাজল শেখ এবং তৌফিকুর রহমান। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা নিজেদের আসনে ফিরে আসেন।

বিলের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সীর অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকার ওবিসি তালিকা তৈরি করেছিল। অন্যদিকে, বিলের বিরোধিতা করেন জয়নগরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

https://www.facebook.com/reel/2301061657368751

বিধানসভায় এ দিন পেশ হওয়া দুটি বিল হল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকান্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ওবিসি সংরক্ষিত পদের হার অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজন অনুসারে সংরক্ষণের হার বৃদ্ধি করা গেলেও মোট সংরক্ষণের পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। পাশাপাশি, অনগ্রসরতার ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভাজনের ক্ষমতাও থাকবে সরকারের।

এ ছাড়া, ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া নিয়ে নাগরিকদের আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন এই আইন রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে।