দ্রুত এসআইআরের কাজ শেষ করে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় পুরস্কৃত দুই মহিলা বিএলও বিনীতা ও করুণা।

ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যজুড়ে যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজ নিয়ে বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও-দের মধ্যে নানা রকমের সমস্যা। আতঙ্ক এবং কাজের চাপে মানসিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ কাজের চাপ নিতে পারছেন না, তাই কান্নাকাটি করছেন। কেউ আবার চাপে আত্মহত্যা করছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এই আবহে অন্য ছবি দেখা গেল আসানসোলে। তাড়াতাড়ি এবং নিখুঁতভাবে নিজের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলে কমিশনের গুড বুকে উঠে এলেন দুই বিএলও।
নিখুঁত এবং দ্রুত। মাত্র ২০ দিনেই SIR কাজ শেষ করে ফেললেন পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর ব্লকের ১১৫ নম্বর বুথের বিএলও বিনীতা কুমারী। সালানপুরের এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মাত্র ২০ দিনের মধ্যে তাঁর বুথের অন্তর্গত প্রায় ৮০০ জন ভোটারের ফর্ম পূরণ এবং তা ‘ডিজিটাইজ়েশন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৭ নম্বর বুথের দায়িত্ব পেয়েছিলেন করুনা মাজি। তিনি রাধানগর রোডের শ্যামাদেবী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তার ভোটার সংখ্যা ৬৭১। করুনা মাজির বাড়ি আসানসোলের সারদাপল্লিতে। তিনি স্কুটি নিয়ে তার বুথকেন্দ্রে যেতেন। দুবেলা কাজ করেছেন। রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করেছেন তিনি। করুণা মাজি বলেন দুর্গা পুজোর সময় থেকেই তিনি ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। গত ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় তিনি শিক্ষকতা করছেন। তাই এলাকার মানুষকে চেনেন এবং সকলের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করতে পেরেছেন।
সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছেন, “ অসাধারণ কাজ করেছেন বিনীতা কুমারী এবং নির্ভুল কাজ হয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় তিনি শিক্ষকতা করছেন। তাই এলাকার মানুষকে চেনেন এবং সকলের সহযোগিতা পেয়েছেন বলে ২১ দিনের মধ্যে দ্রুত কাজ শেষ করতে পেরেছেন। বাড়িতে স্বামী ছাড়াও তার দুই মেয়ে রয়েছে। একজন ডাক্তারী পড়ছেন আর একজন মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন। ট্রেনিং খুব ভালো হয়েছিল বলে জানান বিএলও করুণা মাজি। ২১ দিনের মাথায় এসআইআরের কাজ শেষ করেছেন ওই বিএলও।“
যে বিএলওরা এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাঁদের জন্যও বার্তা দিলেন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৭ নম্বর বুথের বিএলও করুনা মাজি।
বিনীতা বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকের ১১৫ নম্বর বুথের বিএলও। করুণা আসানসোল উত্তর বিধানসভার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর বুথের কাজ করেছেন। দুজনেই ফর্ম দেওয়া, ফর্ম জমা নেওয়া এবং নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও ডিজিটাইজেশনের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে ফেলেছেন। জেলায় বিনীতা প্রথম এসআইআরের কাজ শেষ করলেন। সালানপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনীতা কুমারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। দ্বিতীয় করুণা মাজি। তাঁকেও মহকুমা শাসকের তরফে পুরস্কৃত করা হয়।