অভাবী পরিবার থেকে কোটিপতি দুই কিশোর!

কে বলে নতুন প্রজন্ম শুধু মুঠো ফোনে বুঁদ ?  বোকাবাক্স, আড্ডায় ব্যস্ত ? আজ যে দুজন কিশোরের কথা বলবো তাঁদের গল্প শুনলে নব প্রজন্মের দিকে আঙুল তোলা কাকু, জেঠুদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে!

গৌতম প্রামাণিক, নিজস্ব সংবাদদাতা :  আজ বলবো দুই বন্ধুর সাফল্যের গল্প। কোনও লটারি জেতা নয়। এই দুই কিশোর তথা দুই পড়ুয়া  কোটিপতি হয়েছেন তাঁদের মেধার জোরে। অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তাঁরা। ছোট্ট শহর থেকে শুরু হওয়া ব্যবসা পৌঁছে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী বিদেশেও। কোটি টাকা ব্যবসা করে কার্যত চমকে দিয়েছে এই দুই কিশোর। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সেনসেশন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দুই ঠেকুয়া-ম্যান। বয়স মাত্র ১৭ বছর। ওই দুই কিশোর প্রমাণ করেছে ইচ্ছাশক্তি আর কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। একসময় ফ্যানা ভাত খেয়ে জীবন নির্বাহ করা দুই তরুণ যে এইভাবেও কোটিপতি হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ তৈরি করেছেন এই দুই কিশোর।

পাহাড়, ছৌ শিল্পের দেশ- পুরুলিয়া। শীত পড়তেই পর্যটকরা ভিড় করেন এই জেলায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই। এই পুরুলিয়ার আদ্রা শহরেই দুই ছাত্র নতুন ভোর এনে দিয়েছে। একদিন যারা ফ্যানা ভাত খেত তারাই এখন কোটি টাকার ব্যবসায়ী।

কী এমন করল যে শূন্য থেকে শীর্ষে উঠে গেল ?  সব বলব। কিন্তু তার আগে ওই দুই কিশোর কে তা জেনে নেওয়া যাক। দুই বাঙালি পড়ুয়া। তাঁদের নাম জয়ন্ত কর্মকার ও বন্ধু কৈলাস বাউড়ি। পড়াশোনার ফাঁকেই তাঁরা ভেবেছিলেন কিছু করে দেখাতে হবে। আর এই ভাবনা থেকে জন্ম নেয় শুদ্ধ স্বাদ। দেশি স্ন্যাক্সের ব্যবসা। ঠেকুয়া তৈরি করে কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছেন জয়ন্ত ও কৈলাস। ছট পুজোর সময় যার চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া।

কী ভাবছেন তো বাঙালি হয়ে ঠেকুয়া তৈরির ভাবনা এল কোথা থেকে ? বিস্কুট, স্ন্যাক্সের ব্যবসার কথা ভাবতে গিয়ে ঠেকুয়ার কথা মাথায় আসে তাঁদের। ঠেকুয়াকে স্ন্যাক্স হিসাবে প্রেজন্ট করে তাঁরা। জয়ন্তর বাড়ি  আদ্রা থানার কাটারাঙ্গুনিতে। কৈলাস থাকে লোয়ার বেনিয়াশোলে। ঠেকুয়ার ব্যবসা শুরুর সময় বহু মানুষ তাচ্ছিল্য করেছেন। হাসাহাসিও কম হয়নি। কিন্তু সবরকম বাধা কাটিয়ে সাফল্যের সিঁড়িতে চড়তে পেরেছেন তাঁরা। নব প্রজন্ম তাই তারা হাতিয়ার করেছে সোশ্যাল মাধ্যমকে। ঠেকুয়া তৈরির ভিডিও আপলোড করতেই লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে তাঁরা পৌঁছে গেছে। শুদ্ধ স্বাদ এক বছরে আয় করেছে এক কোটি টাকা। বাংলা ছাড়িয়ে তাঁদের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে মহারাষ্ট্র, ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র। অনলাইনেও চলছে ব্যবসা। রয়েছে তাঁদের ওয়েবসাইটও। এখন তাঁদের টিমে রয়েছেন ১৫ জন।

দুই কিশোর এলাকার মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। প্রথমে নিজের পুঁজিতে সমস্যা ছিল। এখন সমস্যা দূর হয়েছে। এখন তাঁদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজার দখল করা। দেশীয় বাজারে তাঁদের কোম্পানির স্ন্যাক্সের আরও বিস্তার ঘটানোটাই এখন স্বপ্ন জয়ন্ত এবং কৈলাসের।