‘অভিযোগ করলেই হবে না, প্রমাণ দিতে হবে’

বিধানসভায় বিজয়ের নিশানায় উদয়নিধির পাল্টা তোপ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তামিলনাড়ুর বিধানসভায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এবং বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হল। ডিএমকের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর তোলা একাধিক অভিযোগের জবাবে উদয়নিধির সাফ কথা, শুধু অভিযোগ করলেই হবে না, তার প্রমাণও দিতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিরোধীদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ‘বিষয় ঘোরানোর চেষ্টা’ করেছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।

বিধানসভা অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের উদয়নিধি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে প্রায় ১১ মিনিট পুলিশ দফতর নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বিরোধীরা তা শান্ত ভাবে শোনে। তার পরেই ডিএমকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন বিজয়। কিন্তু সেই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ বিরোধীদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি উদয়নিধির।

তাঁর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী অনেক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, কিন্তু তার কোনও প্রমাণ দেননি। আমরা স্পিকারের কাছে জবাব দেওয়ার সুযোগ চেয়েছিলাম। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’’ এরপরই ডিএমকের বিধায়করা ওয়াকআউট করেন বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন উদয়নিধি। তাঁর দাবি, পুলিশ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে বিজয় অন্য প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। সেই সূত্রেই বিজয়ের সারকারিয়া কমিশন এবং MISA-র উল্লেখ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ‘‘১৯৭০ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। সারকারিয়া কমিশন নিয়ে উনি কী জানেন?’’—কটাক্ষ উদয়নিধির।

এর আগে বিধানসভায় ডিএমকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) উল্লেখ করে তাঁর দাবি, দলের তহবিল সংগ্রহের নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, উদয়নিধি এবং মন্ত্রী সেন্থিল বালাজির নামও ওই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন তিনি। করুণানিধির আমলের সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্টের প্রসঙ্গও তোলেন বিজয়।

তারই জবাবে উদয়নিধি বলেন, ইডি-র বক্তব্যও অভিযোগ মাত্র। পাল্টা তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, ‘‘অভিযোগই যদি প্রমাণ হয়, তা হলে আমাদের প্রশ্ন করার যোগ্যতা তাঁদের কোথায়?’’

এ দিকে পুলিশ দফতরের শূন্যপদ পূরণ, ডিজিটালাইজ়েশন এবং পুলিশের স্বাধীন ভাবে কাজ করার কথা বিধানসভায় জানিয়েছেন বিজয়। মহিলাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য না করার আবেদনও করেন তিনি। এই মন্তব্য ঘিরে উদয়নিধিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে বিধানসভায় নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।