মন্ত্রীর আত্মীয়ের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অভিযোগে ফুঁসছে সাগর। উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার পরিবারের সদস্যদের টার্গেট।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার শান্ত রাজনীতিতে বিষ ছড়ানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে কুরুচিকর পোস্টার ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত গঙ্গাসাগর। খোদ সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি স্বপন কুমার প্রধানের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নথিপত্র বিকৃত করে চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, উন্নয়নের লড়াইয়ে হার নিশ্চিত জেনেই এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুৎসার আশ্রয় নিচ্ছে বিরোধীরা। বুধবার সকালে গঙ্গাসাগর উপকূল থানার চেমাগুড়ি ও গায়েন বাজার মনসা বাজার এবং কালিবাজার এলাকায় কিছু পোস্টার দেখা যায়। সেখানে স্বপন প্রধানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কিছু নথির প্রতিলিপি সেঁটে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট দাবি, এগুলো কোনো সরকারি দুর্নীতির প্রমাণ নয়, বরং স্বপন বাবুর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির দলিল। যা সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে অর্জিত। এই জঘন্য চক্রান্তের মোকাবিলায় পাল্টা সুর চড়িয়েছেন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি স্বপন কুমার প্রধান। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান: “২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হীনমন্যতায় ভোগা একদল মানুষ এই ষড়যন্ত্র করছে। এর আগেও ঠিক ভোটের আগে একই কায়দায় আমাকে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল। আমার মা এবং মাসির ব্যক্তিগত সম্পত্তির দলিল এভাবে জনসমক্ষে আনা কেবল বেআইনি নয়। বরং একটি পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ। মন্ত্রীর সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক থাকাই কি আমার অপরাধ ? যারা এই হীন চক্রান্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা অরুনাভ দাসের অভিযোগ, শাসকদলের নেতারা নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন এবং তিনি এই ঘটনার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই-এর তদন্তের দাবি করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি নেতার এই দাবি আসলে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ঢাল করার পুরনো কৌশল। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মীদের বক্তব্য, বিরোধীদের কাছে মানুষের জন্য কোনও উন্নয়নের খতিয়ান নেই। তাই তারা ব্যক্তিগত চরিত্রহননের নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরণের চক্রান্তে সাগরের সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছেছে। স্বপন প্রধান ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন যাতে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে শ্রীঘরে পাঠানো হয়। উন্নয়নের জোয়ার যখন রোখা যায় না, তখনই বিরোধীরা কুৎসার আশ্রয় নেয়। গঙ্গাসাগরের মানুষ এই ‘পোস্টার ড্রামা’র যোগ্য জবাব ২০২৬-এর ব্যালটেই দেবেন বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির।