‘‘এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে সব পক্ষেরই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।’’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ঘিরে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেস (Antonio Guterres) ‘নৌ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার’-এর জোরালো দাবি জানালেন।
রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই জলপথে একাধিক ঘটনার জেরে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে সব পক্ষেরই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।’’
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডর হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বে। ইতিমধ্যেই সারের জোগান ব্যাহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। দুজারিক জানান, বিশ্বের মোট সারের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ সরবরাহ বর্তমানে আটকে রয়েছে। এর ফলে ইউরিয়া-সহ বিভিন্ন সারের দাম বেড়ে গিয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে।
শুধু তাই নয়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলির কাজেও প্রভাব ফেলছে। রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষে পরিকল্পনা ও সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের উপরই জোর দিচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইরানের (Iran) মধ্যে চলা অস্থায়ী দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের পথে। তার আগেই দুই পক্ষের তরফে নতুন করে কড়া বার্তা বিনিময় শুরু হয়েছে। যদিও পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে, তবু পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
প্রণালীতে একদিকে ইরানের তরফে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ, অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ আটকানোর অভিযোগ—এই টানাপোড়েনেই বাজারে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। তেলের দামও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) হরমুজে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতাকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংলাপের পথেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা এখন আর শুধুমাত্র আঞ্চলিক সমস্যা নেই—তা ক্রমেই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিকেও পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে শুরু করেছে।