স্ট্রং রুমে অনধিকার প্রবেশ, বিস্ফোরক অভিযোগ!

স্ট্রং রুমে অনধিকার প্রবেশ করা হচ্ছে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুললে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ৪ মে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশ। তার আগে ইভিএমের স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল । তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় শুক্রবার অভিযোগ তুললেন, স্ট্রং রুমে অনধিকার প্রবেশ করা হচ্ছে এবং গণনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।

সৌগত রায়ের দাবি, “বাইরের কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি স্ট্রং রুমে ঢুকে পড়েছে। কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা এ নিয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছেন। কেউ কেউ গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও জানান, শেখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের বাইরে—যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে—সেখানে গুজরাত থেকে আসা কিছু লোক স্লোগান দিচ্ছিল বলেও তাঁর নজরে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি বিজেপি গণনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে চাইছে। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক করেছেন।”

অন্যদিকে, শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা মেয়র গৌতম দেবও একই সুরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমরা তীব্রভাবে নিন্দা করি। মানুষের রায় সঠিকভাবে গণনা হওয়া উচিত। কোনওভাবে তা বিকৃত করার চেষ্টা হলে নির্বাচন কমিশনকে দায় নিতে হবে, এবং মানুষ ও তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদে নামবে।”

এর আগেই বৃহস্পতিবার কলকাতার ভবানীপুরে স্ট্রং রুম পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টেলিভিশনে সিসিটিভি দেখে সন্দেহ হওয়ায় নিজেই এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখি। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে ঢুকতে দেয়নি, যদিও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রার্থী বা এজেন্টের প্রবেশাধিকার রয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আমাদের এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে, একপেশে আচরণ হয়েছে। এর পরেও যদি কেউ ইভিএম চুরি বা গণনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তাহলে আমরা জীবন-মরণ লড়াই করব।”

ভোট গণনার প্রাক্কালে এই সমস্ত অভিযোগ-প্রতিআভিযোগে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের দিকে।