পুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার সন্ধ্যায় সল্টলেকে ইডির দপ্তর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরনোর পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন বলে সূত্রের খবর।

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
এই ঘটনায় বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁদের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর নামও উঠে এসেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি, মূল্যবান নথি জাল করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে রয়েছে বিএনএসের ৩১৬, ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩), ৩৩৮, ৩১৮, ৬১(২) এবং ৩৪০(২)। পুজোর পাস বিক্রি ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্তে পুলিশ কী কী তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং এই ঘটনায় অন্যদের ভূমিকা কী, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
ইউনেসকোর নাম ব্যবহার করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে লালবাজার। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামনে রাখা হয়েছিল তাঁর সংস্থা ‘মাস আর্ট’-কে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশের অভিযোগ, ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী, মেয়ে এবং আত্মীয়দের নামে থাকা একাধিক সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়েছিল। পাশাপাশি, শেল কোম্পানি তৈরি করে অর্থ সরানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের একটি জটিল চক্র গড়ে তোলা হয়ে থাকতে পারে।
এখানেই শেষ নয়। ইউনেসকোর নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুরো বিষয়টির আর্থিক লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে চাইছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগের জাল কত দূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে আরও গভীরভাবে তদন্ত চালানো হচ্ছে।