কোনও রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সাধারণত গোপন রাখাই নিয়ম। রোগীর অনুমতি ছাড়া সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা যায় কি না, তা নিয়েই এ বার আইনি প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগ। অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে মমতার একাধিক মেডিক্যাল রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। আর তা নিয়েই এসএসকেএম হাসপাতালের ডিরেক্টর, সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। কোন নিয়মের ভিত্তিতে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হল, নোটিসে সেই প্রশ্নই তোলা হয়েছে।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা
ঘটনার সূত্র ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। সে বার নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ভোটপ্রচারে বেরিয়ে বিরুলিয়া বাজারের কাছে দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লাগে বলে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছিল। পরে হুইলচেয়ারে বসেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চালিয়েছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর চোট নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিল, সত্যিই কি তাঁর পা ভেঙেছিল? মমতার চোট নিয়েও নানা রাজনৈতিক মন্তব্য, পাল্টা দাবি এবং জল্পনা চলেছিল।
এ বার সেই পুরনো ঘটনাই নতুন করে রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। সম্প্রতি মমতার চোট সংক্রান্ত কয়েকটি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’-এর অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্টগুলি সামনে আসার পরেই রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মমতার শিবির।
অর্ক নাগের পাঠানো আইনি চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রোগীর সম্মতি ছাড়াই তাঁর চিকিৎসার নথি কী ভাবে প্রকাশ্যে এল। হাসপাতালের তরফে এমন নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট বিধি, অনুমতি বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ফলে ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-পর্বের পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ বার প্রশ্ন শুধু মমতার চোট সত্যি ছিল কি না, তা নয়—এক জন রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা-নথি রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে এনে প্রকাশ করা যায় কি না, সেই গোপনীয়তার অধিকার নিয়েও।