অশান্ত নেপালঃ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধানের পরামর্শ মেনে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কেপি ওলি। কিন্তু ক্ষোভের আঁচ তাতে কমেনি। বুধবারও উত্তপ্ত নেপাল। শান্তি ফিরবে কোন পথে ?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোমবার থেকে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে নেপাল, যা নেভেনি বুধবারেও। জেন জি আন্দোলনকারীরা নেপালের সেনাপ্রধানের সঙ্গে মধ্যরাতে আলোচনায় বসেন, যে বৈঠকে তাঁদের দাবিদাওয়া পেশ করে জেন জি আন্দোলনকারীরা। বৈঠকে জেনারেল সিগডেল বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া মানুষের হতাহতের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলি সমাধানের আহ্বান জানান। বুধবার সেনার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আরও এক দফা আলোচনা হতে পারে। সেই প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বললেন, নেপালের হিংসার ঘটনা হৃদয়বিদারক। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার জন্য এদিন জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকও ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা নিয়ে মোদি বললেন, পড়শি রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন জরুরি। সে দেশের বাসিন্দাদেরও শান্তি বজায় রাখতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

এই মুহূর্তে নেপালে কার্যত সেনার দখলে। নেপাল জুড়ে শুধুই সেনার দাপট। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে রাস্তায় সেনা মোতায়েন করে নেপালি সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে নেপালি সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের কাছে লুটপাঠ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর বন্ধ করার জন্য, কোন অশান্তিতে জড়িত না থাকার আবেদন করেছে। নেপালের এই অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে তারা। বুধবার সকাল থেকে নেপাল সরকারের প্রধান সচিবালয় ভবন নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। দেশে লুটপাট চালালে, ভাঙচুর করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে, এমনটাই জানিয়ে নেপালের সেনাবাহিনী। দেশের নাগরিকদেরও সহযোগিতা চেয়েছে তারা।

নেপালের পরিস্থিতির জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিহারের রক্সৌল সীমান্তকেও। সীমান্তের ওপারে রয়েছে নেপালের বীরগঞ্জ। ওদিকে সকাল থেকে দলে দলে ফিরছেন ভারতীয় পর্যটকরা। কেউ হেঁটে, কেউ বাসে, কেউ আবার ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে ফিরে আসছেন। মঙ্গলবার বীরগঞ্জে অনেক সরকারি ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, পরিস্থিতির এহেন অবনতিতে তড়িঘড়ি ফিরে আসছেন ভারতীয়রা, নিরাপত্তারক্ষীদের তরফে ব্যাগপত্র তল্লাশি করে, পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবেই ছাড়া হচ্ছে সবাইকে। নেপালের দিকেও সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ভারত থেকে শুধুমাত্র নেপালের নাগরিকদের ওপারে যেতে দেওয়া হচ্ছে।