আমেরিকাকে কড়া বার্তা ইরানের, পাল্টা হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ফের উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী। ইরানের সদ্য নিযুক্ত সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আমেরিকা তেহরানের সব শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। তাঁর বার্তা, যুদ্ধ এবং অবরোধ বন্ধ করতে হবে। ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং লেবানন ও গাজা-সহ গোটা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিতে হবে—এই শর্তগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে রেজাই লেখেন, ‘‘সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী বন্ধ থাকবে।’’ এর আগে চিনা রাষ্ট্রদূত জং পিয়ুর সঙ্গে বৈঠকেও একই অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর দাবি, আমেরিকা ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ না করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না।
রেজাই জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে আরও কিছু শর্ত জানানো হয়েছে। এমনকি হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে কোনও সমঝোতা হলেও, তাতে প্রণালী খোলা বা বন্ধ রাখার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত বদলাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, ইরানের হুঁশিয়ারির পাল্টা কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার ‘‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’’ রয়েছে। ইরানের উপর আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, তেহরান কোনও পদক্ষেপ করলে তার কড়া জবাব হবে।
ট্রাম্পের দাবি, ‘‘আমরা খুব ভাল অবস্থানে রয়েছি।’’ তাঁর অভিযোগ, গত পাঁচ দশক ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাদাগিরি’ করেছে, কিন্তু সেই পরিস্থিতি আর নেই।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-আমেরিকার এই অবস্থানে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও দামের উপর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে।