এটি পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার।

শুভাশিস দাস, সাংবাদিক : যুদ্ধবিমানের কান ফাটানো আওয়াজ, ড্রোন আর মিসাইল থেকে ঠিকরে আসা আগুনের ঝলকানি, সঙ্গে মুহুর্মুহু সাইরেন, পশ্চিম এশিয়ার আকাশজুড়ে শুধুই যুদ্ধের গর্জন। ইরানকে ঘিরে যখন আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এ কী ঘটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চমকে দিল, আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল গোটা বিশ্বকে। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের আবহে মিনিটম্যান ৩ অর্থাৎ এলএমজি ৩০ মিনিটম্যান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল আমেরিকা। যাকে অনেক সময় ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র এমন পরমাণু বোমা বহন করতে পারে, যার শক্তি হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি। ইরানের সঙ্গে যখন আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক সংঘাত তুঙ্গে, সেই আবহে পরমাণু বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে কি ইরান-সহ বিশ্বকে কোনও বার্তা দিতে চাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববাসীর প্রশ্ন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি শুরু হয়ে গেছে, নাকি আসন্ন? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন ইরানের শেষ দেখে ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেমনই, তেহরানের তরফেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আক্রমণ বন্ধ না হলে, হামলার রাস্তা থেকে সরবে না তারাও।
এরইমধ্যে ভারত মহাসাগরের উপর শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের জাহাজের উপর হামলা সাবমেরিন-এর। এই ঘটনায় অন্তত ১০১ জন নিখোঁজ। আহত হয়েছেন ৭৮ জন। তবে ডুবন্ত জাহাজ থেকে ৩২ জনকে উদ্ধার করেছে শ্রীলঙ্কার সেনা।
এক বিবৃতি জারি করে আমেরিকার স্পেস ফোর্স এই পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। বায়ুসেনার গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কাজ করেছে। ক্যালিফর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে এটাও দাবি করা হয়েছে, এই পরীক্ষণের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কোনও যোগসূত্র নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি আটকে ছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হল বলে দাবি করেছে স্পেস ফোর্স।
চলুন দেখেনি ভয়ঙ্কর সেই মিনিটম্যান–৩ ক্ষেপণাস্ত্র।

মিনিটম্যান–৩ ক্ষেপণাস্ত্র
নাম মিনিটম্যান-৩। এটিকে ‘ডুমসডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হচ্ছে। মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি পরমাণু বোমা বহনক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র। ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম মিনিটম্যান এই কারণেই যে, এক মিনিটের মধ্যে নিশানাকে ধ্বংস করতে পারে। আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারের অন্যতম শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র ১৯৭০-এর দশক থেকে ব্যবহার হচ্ছে। এটা স্থলভাগ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। আমেরিকার কাছে এ রকম ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আছে। এর শক্তি জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা পরমাণু বোমার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি।
আমেরিকার স্পেস ফোর্স বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান–৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যখন সামরিক উত্তেজনা চরমে, বিশেষ করে যেখানে আমেরিকা সরাসরি জড়িত এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তখন এই ধরনের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা কি শক্তি প্রদর্শনের একটি বার্তা?