কেউ রান্নাঘরে !কেউ লাঙল হাতে !

কথায় আছে ভোট বড় বালাই ! আর সেজন্যই তো ভোটবঙ্গে কতই না রঙ্গ দেখছেন বঙ্গবাসী!

অনুপ চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : হেঁশেল থেকে মাঠ। ভোটের ময়দানে ঘরের ছেলে বনাম মাঠের লড়াকুর ইমেজ। কোথাও ডাল-ভাতের জনসংযোগ আবার কোথাও লাঙল কাঁধে প্রচার। ভোটের আগে মাটির কাছাকাছি থাকার বার্তা রাজনৈতিক শিবিরে। ভোটের আগে রাজনীতির ভাষা বদলায়। মঞ্চের বক্তৃতা নেমে আসে ঘরের উঠোনে, কখনও আবার মাঠের আলপথে। ঠিক তেমনই ছবি ধরা পড়ে হুগলির দুই কেন্দ্রে। গোঘাট ও পুরশুড়ায়। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ নির্মল মাঝির হেঁশেল-রাজনীতি, অন্যদিকে বিজেপির বিমান ঘোষের মাঠে নেমে চাষের বার্তা। যা কার্যত বলা যায় হেঁশেলে বসে ঘরের ছেলে ইমেজ বজায় রাখার পালা। বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করতে গিয়ে সরাসরি ঢুকে পড়েন গৃহস্থের রান্নাঘরে। গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ নির্মল মাঝির এই প্রচার কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

দক্ষিণপাড়া এলাকায় প্রচারের সময় এক সাধারণ ভোটারের বাড়িতে গিয়ে রান্নায় ব্যস্ত মহিলাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎই ভাত খাওয়ার আবদার করেন গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ নির্মল মাঝি। এখানেই শেষ নয়। মাটির রান্নাঘরেই পিঁড়ি পেতে বসে যান তিনি। সামনে পরিবেশন করা হয় ভাত, ডাল আর মাছভাজা। এই ঘরোয়া মুহূর্তই এখন প্রচারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রার্থী বলেন, ” এখানে এসে যেন নতুন একটা ঘর পেলাম। মানুষের জন্য কাজ করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব।”

কেন হেঁশেল রাজনীতি?

বাংলার গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘর মানেই আবেগ, আস্থা আর আত্মীয়তার জায়গা। সেই জায়গায় ঢুকে পড়া মানে ভোটারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করা। অন্যভাবে বলা যায় বহিরাগত ইমেজ ভাঙা। মহিলা ভোটারদের মন জয়। ডাঃ মাঝির প্রচারে এই কৌশল স্পষ্ট। তিনি শুধু নেতা নন, ঘরের ছেলে।

প্রার্থীকে নিজের হাতে খাওয়ানোর আনন্দ লুকোননি স্থানীয়রা। অনেকেই বলেন, “নেতারা সাধারণত দূরে থাকেন, কিন্তু উনি আমাদের সঙ্গে বসে খাচ্ছেন। এটাই আলাদা।”

এই আবেগই কি ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

গোঘাটের পাশাপাশি পুরশুড়ায় উঠে এল অন্য ছবি। মাঠে লাঙল হাতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়ককে। বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক বিমান ঘোষ প্রচারের মাঝেই নেমে পড়েন মাঠে। হাতে লাঙল তুলে নিয়ে চাষের কাজে অংশ নেন তিনি। এই দৃশ্যের মাধ্যমে বার্তা পরিষ্কার। কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। মাটির মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা। কর্মী ইমেজ তুলে ধরা।

২ কৌশল, ১ লক্ষ্য

কেন্দ্র – গোঘাট
প্রার্থী – ডাঃ নির্মল মাঝি (তৃণমূল)
কৌশল – হেঁশেলে ঢুকে ভাত খাওয়া
বার্তা – ‘আমি ঘরের ছেলে’

২ কৌশল, ১ লক্ষ্য

কেন্দ্র – পুরশুড়া
প্রার্থী – বিমান ঘোষ (বিজেপি)
কৌশল – মাঠে লাঙল হাতে
বার্তা – ‘আমি মাটির মানুষ’

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে এবারের লড়াই শুধু ইস্যুর নয়, ইমেজেরও। সাধারণ মানুষের জীবনে ঢুকে পড়া প্রতীকী কাজের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া মুহূর্ত তৈরি করা। এই তিনটি বিষয়ই এখন প্রচারের মূল অস্ত্র। এই ধরনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। হেঁশেলে বসে খাওয়া, মাঠে লাঙল চালানো
গ্রামবাসীর সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা। এগুলোই এখন ভাইরাল কনটেন্ট, যা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলছে। ভোটের লড়াই যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত জিতবে সেই প্রার্থী, যিনি নিজেকে সবচেয়ে বেশি আপনজন হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। গোঘাটে হেঁশেলের উষ্ণতা, পুরশুড়ায় মাটির গন্ধ। এই দুইয়ের মাঝেই তৈরি হচ্ছে বাংলার ভোট রাজনীতির নতুন ছবি।