এবার আর সেই ভুয়ো খবর মিথ্যা হল না। সকলকে কাঁদিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ধর্মেন্দ্র।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: কয়েকদিন আগেও তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তারপর জানা যায় সবটা মিথ্যা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু এবার আর সেই খবর মিথ্যা হল না। সকলকে কাঁদিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ধর্মেন্দ্র।
নব্বই ছোঁয়ার আগেই প্রয়াত হলেন কিংবন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ৮৯ বছরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বলিউড হি-ম্যান অভিনেতার। আচমকা এই খবরে চলচ্চিত্র জগতে নেমেছে শোকের ছায়া। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া গোটা বলিউডে। খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে মুম্বইয়ের পবন হংস শ্মশানে পৌঁছন অমিতাভ বচ্চন এবং আমির খান। প্রিয় তারকাকে শেষবার
দেখতে ভিড় জমা ভক্ত থেকে তারকা সকলে।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিংবদন্তি অভিনেতার মৃত্যুকে “ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য এক বিরাট ক্ষতি” বলে লিখেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি লিখেছেন, “অসংখ্য অবিস্মরণীয় অভিনয় করেছেন ধর্মেন্দ্র এবং সেলুলয়েডে তাঁর বিশাল উপস্থিতি হিন্দি চলচ্চিত্রের বিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ দিয়েছেন।”

১৯৭৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ বচ্চন এবং হেমা মালিনী অভিনীত শোলে। ছবিতে বন্ধু বীরুর জন্য গব্বরের সঙ্গে লড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন জয়। কিন্তু বাস্তবে বার্ধক্যজনিত রোগের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বীরু। শোলের সবচেয়ে হিট গান- ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে। যেখানে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন জয় বীরু অর্থাৎ অমিতাভ এবং ধর্মেন্দ্র। কিন্তু আখেরে দোস্তি অর্থাৎ বন্ধুত্ব ভেঙে দিয়ে অন্য দুনিয়ায় পাড়ি দিলেন বীরু। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এমন পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বন্ধুর এই প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। বন্ধু বীরু শেষযাত্রাতেও পাশে ছিলেন জয়। শেষকৃত্যের জন্য শশ্মানেও পৌঁছে যান। এক্স হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অমিতাভ লিখেছেন, “আরও একজন সাহসী কিংবদন্তি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এমন এক নীরবতা রেখে গেলেন যার প্রতিধ্বনি অসহনীয়। মহানতার প্রতীক ধরমজি কেবল তাঁর উপস্থিতির জন্যই বিখ্যাত নন, বরং তাঁর বিশাল হৃদয় এবং মনোমুগ্ধকর সরলতার জন্যও পরিচিত। তিনি তাঁর সঙ্গে পাঞ্জাবের গ্রামের সুবাস নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কেরিয়ার জুড়ে, এমন একটি শিল্পে যেখানে প্রতি দশকে পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু ধরমজি তাঁর শিকরের প্রতি সৎ ছিলেন। তাঁর হাসি, তাঁর আকর্ষণ এবং তাঁর উষ্ণতা তাঁর চারপাশের সকলের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে। যা এই পেশায় একটা বিরল জিনিস।“

কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু যেন একটা যুগের অবসান। একের পর এক হিট ছবি সিনেপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন তিনি। যার সংখ্যা ২৪৭টি।
গত কয়েকমাস ধরেই বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন ধর্মেন্দ্র। তবে শেষের দিকে প্রথম পক্ষের স্ত্রী প্রকাশ কউরের সঙ্গেই থাকছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। তবে কয়েকদিন আগে খবর পাওয়া যায়, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ধর্মেন্দ্র। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, রুটিন চেকআপের জন্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সোমবার বেলার দিকে না যায় মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে ধর্মেন্দ্রকে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয় তাঁকে। এমনকি ধর্মেন্দ্রর চিকিৎসার জন্য আলাদা করে মেডিক্যাল বোর্ডও তৈরি করা হয়। প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। এবার চিরনিদ্রায় চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র।