অভিজ্ঞতা ছাড়া এভারেস্টে অনুমতি নয়, জলবায়ু বদলে বাড়ছে বিপদ, মত ৩১ বার শৃঙ্গে ওঠা শেরপার।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের চরিত্র। অনিশ্চিত আবহাওয়া, দ্রুত গলতে থাকা বরফ, বাড়তে থাকা ফাটল—সব মিলিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে অভিযানের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এভারেস্টে ওঠার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুললেন প্রবীণ নেপালি পর্বতারোহী পাসাং দাওয়া শেরপা। ৩১ বার এভারেস্ট জয় করা এই শেরপার মতে, আগে অন্যান্য উচ্চ শৃঙ্গ জয় করেছেন, এমন অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদেরই এভারেস্ট অভিযানের অনুমতি দেওয়া উচিত।
৪৯ বছরের পাসাং চলতি বছরও দু’বার এভারেস্টের শিখরে উঠেছেন। তাঁর জন্ম এভারেস্টের দক্ষিণ ঢালে প্রায় ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত শেরপা গ্রাম পাংবোচেতে। মাত্র ২১ বছর বয়সে পর্বতারোহণের কাজে যুক্ত হন তিনি। দীর্ঘ অভিযাত্রী জীবনে চোখের সামনে এভারেস্টের আবহাওয়া ও পথের পরিবর্তন দেখেছেন।
পাসাংয়ের কথায়, ‘‘আগে শীতকালে তুষারপাত স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অস্বাভাবিক ভারী তুষারপাত হয়েছে। এর ফলে খুম্বু অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হয়েছে, তেমনই অভিযাত্রীদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়েছে।’’ তাঁর আশঙ্কা, আবহাওয়ার এই দ্রুত পরিবর্তন আগামী দিনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
শুধু আবহাওয়াই নয়, বদলেছে এভারেস্টের পথও। পাসাং জানান, কয়েক বছর আগেও খুম্বু আইসফলের পথ রোলাংয়ের দিক দিয়ে খোলা হত। এখন সেই পথ খুলছে নুপৎসের দিক থেকে। বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন নতুন ফাটল ও ক্রেভাস তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এভারেস্টে অভিযাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৬ সালে এভারেস্টের জন্য প্রায় ৫০০টি পারমিট দেওয়া হয়েছে—যা রেকর্ড বলে দাবি করা হচ্ছে। পাসাংয়ের মতে, নির্দিষ্ট সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে এলব্রুস, ডেনালি বা কিলিমাঞ্জারোর মতো পর্বত জয় করা অভিযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনুমতি দিলে অভিযান নিরাপদ হতে পারে।
এ দিকে অভিযানের খরচও বেড়েছে। বসন্তকালে বিদেশি অভিযাত্রীদের এভারেস্টের দক্ষিণ দিকের স্বাভাবিক পথে ওঠার রয়্যালটি ১১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১৫ হাজার ডলার হয়েছে। শরৎ, শীত ও বর্ষার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে ফি। ১৯৫৩ সালে তেনজিং নোরগে শেরপা ও এডমন্ড হিলারির প্রথম এভারেস্ট জয়ের পর নেপালের দিক থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রেখেছেন।