শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন। ভোট দিয়ে বিধায়ক বা সাংসদ বেছে নেওয়া। কিন্তু সরকার বা জনপ্রতিনিধির কোনও অপরাধমূলক বা অনৈতিক কাজে আপত্তি থাকলে? দেশের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন চেয়ে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের ডাক দিলেন লাদাখের শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ বিপ্লবই একমাত্র পথ।
X হ্যান্ডেল পোস্টে তিনি দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ভারত তো আগে থেকেই স্বাধীন, তাহলে সোনমের দ্বিতীয় স্বাধীনতা ডাক দেওয়ার মানে কী? তিনি লেখেন, লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকায় বসে দেশের নিঃস্বার্থ রাজনীতিকদের খুঁজে বার করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তাই তাঁদের খুঁজে বার করার দায়িত্ব দিয়েছেন দেশের সাধারণ জনগণকে। সম্ভবত সেই নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নতুন ভারত গঠনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি হতাশ বলে জানিয়েছেন সোনম। এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় ভারতের অগ্রগতি আশানুরূপ নয় দাবি করে তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যে দেশগুলো আমাদের থেকে পিছিয়ে ছিল বা ভারতের সমকক্ষ ছিল, আজ তারা অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। মাথাপিছু জিডিপির নিরিখে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের উদাহরণ দেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিচলতে থাকলে ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছিলেন সোনম। ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে যন্তর মন্তরে তাঁর আন্দোলন গোটা দেশে ঝড় তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তবে প্রহ্লাদের কাজে সন্তুষ্ট নন সোনম। তাঁর কথায়, নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে দেশের ভবিষ্যৎ পিছিয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরেই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে কাঠগোড়ায় তোলেন সোনম। তবে নির্দিষ্ট কোনও দলের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই জানিয়ে সোনম বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিভিন্ন সরকারের বিরুদ্ধেই অন্যায়ের প্রতিবাদে ওঠা কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি ২০১২-১৩-র দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের কথাও বলেন। তাঁর মতে, সেই আন্দোলনের জেরে দিল্লিতে সরকার বদল হয়েছিল। সোনম বলেন, ১২ বছর পরে দুর্নীতি পথ বদলেছে। আরও বড় আকারে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ভয় দেখাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতে একটি বড় পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন সোনম। আর সেই পরিবর্তনকে তিনি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ওয়াংচুকের মতে, ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল নেতা বেছে নেওয়ার পদ্ধতি। তিনি বলেন, নেতা ভালো না হলে গোটা দেশ ভুল পথে চালিত হয়। তবে সৎ ও নীতিবান রাজনীতিবিদ এখনও রয়েছেন বলেও মনে করেন তিনি। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওয়াংচুক প্রশ্ন তোলেন, দেশের বহু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যখন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তখন ভারত কী ভাবে উন্নত দেশে পরিণত হবে?
তাঁর দাবি, ভারতের প্রায় অর্ধেক সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সাংসদের বিরুদ্ধে হত্যা, যৌন নির্যাতন ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ । এই পরিস্থিতিতে দেশের সেরা মেধাবী মানুষদের একত্রিত করতে চান ওয়াংচুক। তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ ও নতুন ভাবনা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সোনম ওয়াংচুকের এই ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।