‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে’, ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা তোপ তেহরানের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও তীব্র হল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করলেন, কৌশলগত এই জলপথের উপর ‘‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’’ রয়েছে আমেরিকার। একই সঙ্গে তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর বার্তা, ইরান কোনও পদক্ষেপ করলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর।
ইরানের উপর আস্থার প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ওরা বার বার আমার সঙ্গে মিথ্যা বলেছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। ওদের হাতে নেই। ’’
তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান কোনও পদক্ষেপ করলে তার ফল ভাল হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও এক সময় ওরা হয়তো কিছু করবে, তার পর ওদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।’’ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা এখন ‘‘খুব ভাল অবস্থানে’’ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। গত পাঁচ দশক ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাদাগিরি’ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে ট্রাম্পের মন্তব্য, সেই দিন আর নেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই পাল্টা সুর চড়িয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হরমুজ নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা ছিল। এর পর পরিস্থিতির জন্য তিনি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযানকেই দায়ী করেছেন।
বাঘাইয়ের বক্তব্য, হরমুজ নিয়ে ইরানকে ‘শর্ত চাপানোর’ জন্য দায়ী করা হলে সেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছেই তোলা উচিত। তাঁর দাবি, ‘‘হরমুজের পরিস্থিতি এবং সেখানে যা ঘটেছে, তার জন্য আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক আগ্রাসনই দায়ী।’’
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে হুঁশিয়ারি পাল্টা হুঁশিয়ারিতে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। উপসাগরীয় অঞ্চলের জাহাজ চলাচল এবং তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে কেন্দ্র করে ইরান-আমেরিকা সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।