১০ অক্টোবর ভোটচুরির প্রতিবাদে যন্তরমন্তরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সিজেপি। যদিও তাতে অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তবে অনুমতি না মিললেও যন্তর মন্তরেই বিক্ষোভ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিল সিজেপি। ‘গ্রেফতার করুন’, চ্যালেঞ্জ অভিজিত দীপকের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
‘ভোটচুরি’র অভিযোগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু সেই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। তাতেও দমতে নারাজ সংগঠনের কর্মী অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অনুমতি মিলুক বা না মিলুক, বিক্ষোভ হবেই। প্রয়োজনে গ্রেফতার হতেও প্রস্তুত তাঁরা। অন্য দিকে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার যুক্তিতে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় পুলিশ।
বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে মেট্রো পরিষেবা ও রাস্তায় বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “এত ভয় কিসের? আপনারা দেশের যুবসমাজকে ভয় পাচ্ছেন। ট্রেন বন্ধ করছেন, মেট্রো বন্ধ করছেন, মানুষ তা হলে কী করবে?” সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিধিনিষেধের কারণে যে দুর্ভোগ তৈরি হবে, তা নিয়েও প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
অভিজিতের কটাক্ষ, “দিল্লি কি নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের সম্পত্তি? এক দিকে বলছেন, বিক্ষোভের জন্য মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। অন্য দিকে মেট্রো বন্ধ করছেন, রাস্তা আটকে দিচ্ছেন। তাতে কি মানুষের অসুবিধা হবে না?” গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কত জনকে আটক করবেন? আমাকে গ্রেফতার করুন, আটক করুন! সৌরভ প্রস্তুত, আশুতোষও প্রস্তুত।”
বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বাক্স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, যন্তর মন্তর নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, প্রতিবাদ করতে অনুমতি লাগবে কেন?
দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসের কাছ থেকে আবেদন আসে। কিন্তু বিক্ষোভের মাত্র তিন দিন আগে আবেদন করায় এবং অতীতে পুলিশের নির্দেশ ও আয়োজকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় অনুমতি দেওয়া হয়নি। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচলের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারাও বলবৎ রয়েছে। সেই বিধি অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।