“হাত কেটে নেব !”- ফের পাক উস্কানি !

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার এবং জলবায়ু মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, “ভারত এইভাবে জলের প্রবাহ আটকে দিতে পারে না।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সিন্ধুতে জল নেই, দেশের কৃষি ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বারবার ভারতের কাছে সিন্ধুর জল চেয়ে কাকুতি মিনতি করেছে পাকিস্তান। এবার সেই আবেদন নিবেদন ছেড়ে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি! হাত কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি।
সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে হাতে তো বটেই, ভারত ভাতে মারার কৌশল নিয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ চলে যাওয়ার পরই স্থগিত করা হয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি। ভারতের এই পদক্ষেপে কার্যত দিশেহারা অবস্থা পাকিস্তানের। ভারতকে বারবার আর্জি জল দাও, জল দাও। সেই আর্জিতে কাজ না হওয়ায় এবার সরাসরি ভারতকে হুমকি দিয়ে পাকিস্তান বলল, জল আটকাতে এলে হাত কেটে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে বলা হয়েছে, জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনিই।
জলে টান পড়তেই মরিয়া হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেছে ইসলামাবাদ। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার এবং জলবায়ু মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। সেই যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জল যেতে দেবেন না। পাক মন্ত্রীর দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাকিস্তান তাদের জলের ভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে দায়বদ্ধ। ভারত এই ভাবে জলের প্রবাহ আটকে দিতে পারে না, বলে দাবি করেছেন তিনি। মালিকের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার দাবি করেছেন, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ভারত একতরফা বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি জানান, জল নিয়ে পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জল আমাদের লাইফলাইন এবং এটাই আমাদের শেষ সীমারেখা।

২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পরে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত করেছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি হয়েছিল। ভারত তা স্থগিত করার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে পাকিস্তানের অধিকার। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত।
এই আবহে সম্প্রতি ভারতের জলশক্তি বিষয়ক মন্ত্রী সিআর পাতিল ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধুর জল প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার পরেই চলতি মাসে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আসিফ বলেন, জল আমাদের জাতীয় সুরক্ষারই অংশবিশেষ। যদি আমাদের মনে হয় যে, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তা হলে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধের পথে হাঁটব। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার এই সদস্য জানান, পাকিস্তান তীব্র জলসঙ্কটে ভুগছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি থাকা সত্ত্বেও জলের প্রবাহ আটকে দেওয়া বা গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছে ইসলামাবাদ। এ বার সিন্ধুর জলবণ্টনচুক্তি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়াল তারা।

তবে একটা কথা পাকিস্তান যেন না ভুলে যায়, যত বারই তারা ভারতে হামলা চালিয়েছে সে জঙ্গি হানা হোক বা কার্গিল যুদ্ধ এদেশ কিন্তু জবাব দিতে দু বার ভাবেনি। গত বছর পহেলগাঁওয়ে যে ঘৃণ্য জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী, তাদের নিকেশ করতে অপারেশন সিঁদুর লঞ্চ করেছিল ভারত। ভারতের এই সামরিক অপারেশনে নাস্তানাবুদ হতে হয় পাকিস্তানকে। শেষমেশ ভারতের কাছে বারবার আবেদন করে সংঘর্ষ বিরতি করতে হয় পাকিস্তানকে। যদিও ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযানের পর দু দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি করানোর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহুবার এই দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ভারত সেই দাবি বারবার অস্বীকার করে এসেছে। সম্প্রতি অপারেশন সিঁদুরের সময় শহিদ ভারতীয় সেনাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। ছয় শহিদের নাম- সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অ্যাভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলিনায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং ও সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার।
আবারও যদি পাকিস্তান কোন কলকাঠি নাড়ে, ভারত কিন্তু এক মুহূর্তও চিন্তা করবে না উচিত জবাব দিতে। কলসির কানা মারলে ভারত প্রেম দেবে না, বরং উচিত শিক্ষা দেবে।