বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে- ‘সুপ্রিম’ পর্যবেক্ষণ

“প্রাক বৈবাহিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই সাবধান হতে হবে।” একটি মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিমকোর্ট।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : “বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই সাবধান হতে হবে।” একটি মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিমকোর্ট। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলায় জামিনের দাবিতে শুনানি চলছিল শীর্ষ আদালতে। সেখানেই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিমকোর্ট। বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চ সোমবার মামলার শুনানি চলছিল। অভিযোগ এক বিবাহিত ব্যক্তি একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটে আলাপ হওয়া এক মহিলাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। তা সত্বেও আরও এক মহিলাকে বিয়ে করেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়।

শুনানির সময় বিচারপতি নাগারত্ন মন্তব্য করেন, “হয়তো আমরাই সেকেলে। কিন্তু বিয়ের আগে পুরুষ এবং মহিলা একে অপরের কাছে কার্যত অচেনা। সম্পর্ক যতই গভীর হোক না কেন, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে আমাদের সংশয় আছে।” একইসঙ্গে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “বিয়ের আগে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। সেবিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে।”

সরকারি কৌঁসুলি আদালতে জানান, ২০২২ সালে একটি ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণীর পরিচয় হয়। বিয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং দু’জন দুবাইতেও সাক্ষাৎ করেন। অভিযোগ, ওই সময় তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সম্মতি ছাড়াই রেকর্ড করা হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগকারিনীর আইনজীবীর দাবি, পরবর্তীতে অভিযোগকারিণী জানতে পারেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে থেকেই বিবাহিত। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পঞ্জাবে তিনি আরও এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। সেই তথ্য সামনে আসতেই সম্পর্কের ভিত্তি ভেঙে পড়ে এবং আইনি পদক্ষেপ নেন অভিযোগকারিণী।

মামলাটি শুনে বিচারপতি নাগারত্ন প্রশ্ন তোলেন, বিয়ে নিয়ে যদি অভিযোগকারিণী এতটাই কঠোর মনোভাবাপন্ন হন, তা হলে বিয়ের আগেই কেন তিনি দুবাই সফরে গেলেন? আইনজীবী জানান, যেহেতু তাঁদের পরিচয় ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে এবং বিয়ের উদ্দেশ্যেই সম্পর্ক এগোচ্ছিল, তাই ওই সফর। জবাবে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “যদি বিয়ে নিয়ে এতটাই স্পষ্ট অবস্থান থাকে, তা হলে বিয়ের আগে দুবাই সফরে যাওয়া উচিত হয়নি।”

একইসঙ্গে আদালত জানায়, বিষয়টি সম্পূর্ণ সম্মতিমূলক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বেঞ্চের মন্তব্য, “যদি সম্পর্ক সম্মতিমূলক হয়, তাহলে এই ধরনের মামলা সবসময় আদালতে এনে দোষী সাব্যস্ত করার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত কি না, তা ভেবে দেখা উচিৎ।” দুইপক্ষকেই মধ্যস্থতার পথে পাঠানো হতে পারে বলে জানায় আদালত।

আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি। এরইমধ্যে বিয়ে এবং বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা।