প্রথম বাজেটেই ‘উপহারের ঝাঁপি’, — একাধিক ঘোষণায় চমক বিজেপি সরকারের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্প ও আর্থিক ঘোষণার ঝাঁপি খুললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫.২৯ কোটি টাকার বাজেট সোমবার বিধানসভায় পেশ করেন তিনি। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ২০ শতাংশ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বেকার ভাতা, ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা— একাধিক ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মীদের ডিএ ২০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মোট ডিএ বেড়ে দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশে। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন বলে দাবি সরকারের।
মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের ড্রপ আউট রুখতে অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দিকে, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি বেকার স্নাতকদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। অন্যান্য যোগ্য বেকারদের দেওয়া হবে মাসে ২ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে, পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে এবং অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়া যাবে না।
অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকার পেনশন চালুর ঘোষণাও করেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রের সহযোগিতায় আইআইটি ও আইআইএম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুনর্নির্বাচনে বিজেপির দখলে আসা ফলতাকে ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
চা-বাগান শ্রমিকদের কল্যাণে ‘প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রাম পুলিশ ও গ্রিন পুলিশের বেতন ২০২৬ সালের অগস্ট থেকে মাসে ২ হাজার টাকা করে বাড়ানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিয়েছে সরকার। দুর্গাপুর, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে টেকনো-ইকোনমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজো, তারকেশ্বর মেলা, বারুণী মেলা-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাজেট পেশের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় পুজো দেন। এ বার বাজেটের নথিও তৈরি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাংলা মাদুর ও পাট দিয়ে— যা বাজেট পেশের দিন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।