ভোট লুঠের অভিযোগ মমতার

সরাসরি ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা “নৈতিক জয় নয়, অনৈতিক জয়।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ১৫ বছর পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পালাবদল। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে বিপুল ব্যবধানে ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০০-র বেশি আসনে জয় পেয়ে কার্যত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারা। ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস—রাস্তায় রাস্তায়, পাড়ায় পাড়ায় আবির মেখে বিজয় উৎসবে মেতেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

তবে এই ফলাফল ঘিরে তীব্র বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। সরাসরি ভোট লুঠের অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন লুঠ করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশন হয়ে কাজ করেছে। আমি সিইও এবং মনোজ আগরওয়ালের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এটা নৈতিক জয় নয়, অনৈতিক জয়।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব—সবমিলিয়ে একতরফা প্রভাব খাটানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের দুই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ভবানীপুরে সরাসরি মুখোমুখি লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত করা রাজনৈতিক মহলে বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সকাল থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান তৈরি হয় শেষ দফার গণনায়।

সবমিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর একদিকে যখন বিজয়ের উল্লাস, অন্যদিকে তখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।