বেলা ১১টার কিছু পরে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন তিনি।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে জয়ের পর সংসদ ভবনে ঢোকার আগে সিড়িতে জুতো খুলে নতজানু হয়ে প্রণাম করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে জয়ের পর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেও মঞ্চে উঠে নতজানু হয়ে প্রণাম করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক একই ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঢোকার আগে সিঁড়িতে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় প্রবেশের মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সেই দৃশ্য মন ছুঁয়ে গেল রাজ্যবাসীর।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর বুধবার প্রথমবার বিধায়ক হিসাবে বিধানসভায় শপথ নিলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তখন থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। সামনের রাস্তা লাল কার্পেটে মোড়া। বিজেপি বিধায়করা সার বেঁধে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। বিধানসভায় পৌঁছতেই তাঁকে গার্ড অফ অনারও দেওয়া হয়। সোমবার নবান্নে প্রথম দিনেও একইরকমভাবে সম্মান দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বিধানসভা ভবনে ঢোকার আগে সংবিধান প্রণেতা ডাক্তার বিআর অম্বেডকরের (B. R. Ambedkar) মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই জুতো খুলে সিঁড়িতে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আয়োজিত বিশেষ পুজোয় অংশ নেন তিনি। তারপর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বেলা ১১টার কিছু পরে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করান। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই লড়াই করেছিলেন শুভেন্দু। দুটি আসনেই জয়ী হন তিনি। সংবিধান অনুসারে একটি আসন থেকেই তিনি বিধায়ক থাকতে পারেন। বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন তিনি। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেবেন তিনি।

শুভেন্দুর পর শপথ গ্রহণ করেন নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক কীর্তনিয়া। বুধবার ও বৃহস্পতিবার— এই দু’দিনে মোট ২৯০ জন বিধায়কের শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু। এর অর্থ নন্দীগ্রাম আসনটি তিনি ছাড়তে চলেছেন। সে ক্ষেত্রে সেখানে উপনির্বাচন হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর ‘‘রক্তের সম্পর্ক’’। বিধায়ক না থাকলেও বিশেষ দিনে সেখানে যাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের শপথ সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করল।