তারাতলায় হুড়মুড়িয়ে ভাঙল নির্মীয়মাণ গুদামের ছাউনি

গ্যাস কাটার দিয়ে কাঠামো কেটে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আচমকা ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ একটি গুদামের বিশাল ছাউনি। বুধবার সকালে তারাতলার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নীচে কয়েক জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল। জোরকদমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, তারাতলা এলাকার ওই নির্মীয়মাণ গুদামে বুধবার কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই গুদামের একটি বড় অংশের ছাউনি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধুলোয় ঢেকে যায়। বিকট শব্দে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় নির্মাণস্থলে বেশ কয়েক জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলকর্মীরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদেরও। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী যন্ত্র। ক্রেন দিয়ে ভেঙে পড়া লোহার বিম তোলার চেষ্টা চলছে। তার নীচেই আটকে আছেন শ্রমিকেরা। ঠিক কত জন আটকে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা গিয়েছে ১৩ জনকে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তারাতলার ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করে দিয়েছেন।

রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, ‘‘আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হল ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা। সমস্ত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে।’’

একই সঙ্গে ওই নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী দাবি করেছেন, গুদামটি বেআইনি ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় এই বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, নির্মাণের গাফিলতি কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ধসের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শহরের বুকে ফের নির্মাণস্থলে ধসের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।