“প্রত্যেক দফতরের ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করবে রাজ্য”

পেশ করা হবে বকেয়া ক্যাগ রিপোর্টও: অর্থমন্ত্রী

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাজ্যের প্রতিটি দফতর ও মন্ত্রকের আর্থিক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। একই সঙ্গে ক্যাগ রিপোর্টও বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে বৃহস্পতিবার জানালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

চলতি সপ্তাহে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিটি দফতর এবং মন্ত্রকের আর্থিক লেনদেন ও কাজকর্ম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে অতীতের আর্থিক অনিয়ম সামনে আনা হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’’

আইনশৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদে একটি ডিগ্রি কলেজ এবং কালিয়াগঞ্জে একটি মহিলা কলেজ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, সন্দেশখালিতে একটি নতুন মহিলা থানাও স্থাপন করা হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড়সড় দুর্ঘটনার মোকাবিলায় একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘‘২০০ জন উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে সুন্দরবন এলাকা থেকে ৫০ জন, পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ৫০ জন এবং বাকি ১০০ জনকে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মোতায়েন করা হবে।’’

সামনেই দুর্গাপুজো। তার আগেই রাজ্যে একাধিক নতুন নীতি চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং মহিলাদের আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। শীঘ্রই ‘ভ্যালু ইনসেনটিভ পলিসি’, ‘স্টার্ট-আপ পলিসি’, ‘এআই মিশন পলিসি’ এবং মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘ক্লাউড কিচেন পলিসি’ চালু করা হবে।

সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর এবং মাদ্রাসা শিক্ষার বরাদ্দ কমানো নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দফতরের তহবিল ব্যবহারের হার বিচার করেই বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ আমরা সকলেই ভারতীয়, এটাই আমাদের পরিচয়। পরিচয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনৈতিক উন্নয়নেই জোর দিতে হবে।’’

উল্লেখ্য, সোমবার বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট পেশ করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার নিট বাজেট বরাদ্দ ঘোষণা করে সরকার, যার মূল লক্ষ্য ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ে তোলা।