তিনবছর আগে মাদক বিরোধী আইনে গ্রেফতার। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে। নদিয়ার ছেলের সঙ্গে জঙ্গি ডাক্তার শাহিনের কথা। জেলের ভিতরেই দিল্লি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা?
স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক: তিনবছর আগে মাদক বিরোধী আইনে গ্রেফতার। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে। নদিয়ার ছেলের সঙ্গে জঙ্গি ডাক্তার শাহিনের কথা। জেলের ভিতরেই দিল্লি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা? জেলের ভিতরে থেকে কিনা চলত দেশবিরোধী কার্যকলাপ। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্তে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। দিল্লি বিস্ফোরণে ধীরে ধীরে উঠে আসছে ‘বাংলা-যোগ’—রাজ্যের তিন জেলার জেলবন্দি, এবার নদিয়ার সাবির আহমেদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়।
দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্ত ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিস্ফোরণের নেপথ্যে সক্রিয় চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মিলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কিছু জেলবন্দির। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, জেল থেকেই তৈরি হয়েছিল এক গোপন যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, যার সুতো টেনে এখন উঠে আসছে নতুন সব নাম।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলার পাশাপাশি এবার যোগ মিলেছে নদীয়া জেলার সঙ্গেও। নদীয়ার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত বড় নলদহ এলাকার বাসিন্দা সাবির আহমেদ তিন বছর আগে মাদকবিরোধী আইনে গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডের মূল চক্রের একাংশের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।সেই সূত্রেই গত কয়েকদিন ধরে সাবিরকে জেরা করেছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তাঁর মোবাইল যোগাযোগ, জেল-পরিবেশে তৈরি যোগাযোগ এবং কারাগারের বাইরে থাকা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন একটি তথ্য উঠে আসে—সাবির আহমেদের ভাই ফাইসাল আহমেদের নাম। সূত্রের দাবি, বিস্ফোরণ-কাণ্ডে যোগাযোগ সংক্রান্ত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফাইসালকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে NIA–র একটি বিশেষ দল নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে গেছে। ঠিক কী ধরনের যোগ তাঁর থাকতে পারে, তা জানতে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হচ্ছে।
নদিয়ার সাবির আহমেদের প্রতিবেশিরা অবাক। সাবিরদের নতুন তৈরি হওয়া বাড়িতে এখনও রঙ চড়েনি। সদ্য তৈরি হচ্ছিল বাড়িটি। এই বাড়িররই খেটে খাওয়া মেহনতি ছেলেটা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, ভাবতে গিয়ে অবাক প্রতিবেশীরা। এলাকায় ভালো ছেলে বলেই পরিচিত ছিল। কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সাবিরের দুষ্কর্মের কথা জানা যাচ্ছে। মাদক পাচার থেকে কিনা জঙ্গিদের সঙ্গে আঁতাত।

দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার দাবি, বিস্ফোরণ-কাণ্ডে জড়িত মডিউলটি বিস্তৃত ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যোগাযোগ ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গেও। জেলে থাকা কয়েকজন বন্দির মাধ্যমে সেই যোগাযোগ বজায় ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। প্রেসিডেন্সি, আলিপুর ও দমদম জেলে ইতিমধ্যেই বিস্তৃত তল্লাশি চালিয়ে একাধিক মোবাইল ডিভাইস, যোগাযোগের নথি ও সন্দেহজনক তথ্য উদ্ধার হয়েছে। সেই সমস্ত তথ্যের সঙ্গে সাবিরের ভূমিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিল্লি বিস্ফোরণের নেপথ্যের পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নতুন সংযোগ সামনে আসায় তদন্ত আরও গতি পেয়েছে।