অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ই মিতালি বাগের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ। সোমবার হুগলির আরামবাগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মিতালি বাগের কনভয়ে হামলার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। দলীয় সূত্রে দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
তৃণমূলের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা আচমকাই সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। ভাঙা কাচের টুকরো শরীরে ঢুকে জখম হয়েছেন মিতালি বাগ। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি কোনও সাধারণ হামলা নয়, বরং এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যের জেরে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। দলীয় পোস্টে বলা হয়েছে, বিজেপি পরাজয়ের আশঙ্কায় হিংসার পথ বেছে নিয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনের মুখে সহানুভূতি আদায়ের জন্যই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উল্লেখ্য, আরামবাগ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালে সেখানে জয় পায় তৃণমূল। তবে ২০২১ সালে বিজেপির কাছে আসনটি হারায় তারা। এবার সেই আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল, অন্যদিকে তা ধরে রাখতে তৎপর বিজেপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। তার আগে ক্রমশ বাড়তে থাকা রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে উদ্বেগে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।