কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL)-এর পাঁচ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলার মাটিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ। রবিবার কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (YIL)-এর পাঁচটি ‘ব্রাউনফিল্ড’ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রায় ২,৬৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রাজ্যে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
GRSE-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমডোর পি আর হরি বলেন, ‘‘গ্রেসের জন্য এটি ঐতিহাসিক দিন। পাঁচটি নতুন পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছে। এর ফলে সংস্থার ক্ষমতা ও উৎপাদন পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’’
হুগলি নদীর তীরে তিনটি কৌশলগত এলাকায় পরিকাঠামো তৈরির জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিজ চুক্তি করেছে GRSE। প্রকল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি রায়চকে ৩২ একর জমির উপর। ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে সেখানে তৈরি হবে ২০০ মিটার দীর্ঘ ড্রাই ডক এবং জাহাজের বিভিন্ন অংশ তৈরির জন্য ব্লক ফ্যাব্রিকেশন ইউনিট। সেখানে ২০০ মিটার পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজ এবং ৬০ হাজার ডিডব্লিউটি পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরির পরিকাঠামো থাকবে।

এত দিন মূলত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেই GRSE-র পরিচিতি ছিল। ইতিমধ্যে ১১৮টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে সংস্থাটি। তবে এ বার বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণেও জোর দিতে চাইছে তারা। হরির কথায়, ‘‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’’-এর লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণ।
শালিমারে চার একর জমির ‘টিম্বার পন্ড’ পরিকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা এবং কিড্ডারপুর ডকে দামোদর সাইটে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। সেখানে মাঝারি মাপের জাহাজ তৈরি, জাহাজ মেরামতি এবং বৈদ্যুতিক ফেরি নির্মাণের কাজ হবে।
অন্য দিকে, ইশাপুরের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে দু’টি আধুনিকীকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে YIL। গুরুত্বপূর্ণ ধাতব ‘ফর্জিং’, বন্দুকের নল এবং পরমাণু কর্মসূচির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান তৈরির ক্ষমতা বাড়ানো হবে সেখানে।
GRSE-র চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমডোর পি আর হরি জানান, বর্তমানে GRSE-র প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত। নতুন প্রকল্পগুলির ফলে সেই সীমাবদ্ধতা কাটবে। আসবে নতুন প্রযুক্তি, বাড়বে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা। রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও মিলেছে বলে জানান তিনি। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।