শুভেন্দুকে নিয়ে কী বললেন মা গায়ত্রী দেবী ?

আজকের রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দুর সঙ্গে ছোটবেলার শুভেন্দুর বিস্তর ফারাক ছিল বলেই জানালেন গায়ত্রী দেবী।

মাম্পি রায়,সাংবাদিক : শান্তিকুঞ্জের ছাদে কয়েক দিন আগেই নাকি ফুটেছিল বড় বড় পদ্মফুল। সেই ফুল দেখেই ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বুঝে গিয়েছিলেন মা গায়ত্রী দেবী। শনিবার ছেলে যখন বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন, তখন কাঁথির বাড়িতে বসে আবেগঘন কণ্ঠে গায়ত্রী দেবীর মন্তব্য, “তখনই বুঝেছিলাম, এ বার বাংলায় পদ্ম ফুটবেই।”

নন্দীগ্রাম থেকে জয় তো ছিলই, এ বার ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছেন শুভেন্দু। আর সেই সাফল্যের নেপথ্যে ছেলের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করলেন মা। তাঁর কথায়, “কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতি করছেন শুভেন্দু। ”

তবে আজকের রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দুর সঙ্গে ছোটবেলার শুভেন্দুর বিস্তর ফারাক ছিল বলেই জানালেন গায়ত্রী দেবী। তিনি বলেন, “স্কুলে পড়ার সময় মাধ্যমিক পর্যন্ত ঘর থেকেই বেরোতে চাইত না। একটা শাবল আর বালতি নিয়ে বাগানে চলে যেত।” কাঁথির অধিকারী পরিবারের বাড়ির বাগানে ছিল নানা সবজি ও গাছপালা। ফুলকপি, বেগুন, লঙ্কা, শাক, টমেটো— সব কিছুই নিজে হাতে পরিচর্যা করতেন শুভেন্দু, দাবি গায়ত্রীদেবীর।

রাজনীতির কঠোর লড়াইয়ের আড়ালেও ছেলের সাধারণ জীবনযাপনের ছবি তুলে ধরেন মা। গায়ত্রী দেবীর কথায়, শুভেন্দুর সবচেয়ে প্রিয় খাবার এখনও পান্তাভাত। “গরমে রাতে আমাকে বলে ভাতে জল ঢেলে রাখতে। সঙ্গে কখনও আলুভাজা, কখনও মাছভাজা বা ডিমের অমলেট খেলেই খুশি,” বলছিলেন তিনি।

ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর প্রত্যাশা কী? প্রশ্ন শুনে কিছুটা হেসেই গায়ত্রী দেবী বলেন, “ওর যা মনে আছে, তা-ই করবে। এখন সব কিছু আমাদের বলে না। তবে আমি ঠিক বুঝে যাব।”

শুধু রাজনীতি নয়, ছোট থেকেই ধর্মভাবনাতেও আগ্রহ ছিল শুভেন্দুর— এমনটাই জানালেন তাঁর মা। পাড়ায় কোথাও পুজো হলে সেখানে চলে যেতেন। মিশনেও যেতেন নিয়মিত। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে গভীরভাবে প্রভাবিত শুভেন্দু, দাবি গায়ত্রী দেবীর। তাঁর কথায়, “বাড়িতে অনেক মহারাজ আসতেন। ওঁদের খুব শ্রদ্ধা করে শুভেন্দু।”

রাজনৈতিক ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শুভেন্দুর এই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দিকও কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।