Bangladesh: ‘মোহাজির রেজিমেন্ট’ জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি যুবকদের নিয়োগ করছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন এই জঙ্গি সংগঠনের মূল কাজ আত্মঘাতী হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল, হামলার নীলনকশা বা ব্লু প্রিন্ট বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিতে পারে একজন কুখ্যাত জিহাদি প্রকাশনার সম্পাদক। যে ব্যাক্তি আগে থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত। তার মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই উসকানি ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশে। তবে সেই ব্যাক্তির নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: ডিসেম্বরের একেবারে আমরা শেষ লগ্নে রয়েছি আমরা..কিন্তু বছরের শেষটা ভালো কাটবে তো.. যে ভাবে পড়শি দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে খারাপ কিছুর..বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় নাগরিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ নয়, কারন সেখানে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আই.এস.আই। বছর শেষের আগেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার দপ্তর, ভিসা দপ্তরে আত্মঘাতী হামলা ছক আই.এস.আই.য়ের। এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন.. যেটা গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে। জামাত-ই-ইসলামি, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরি, আনসার- আল-ইসলাম এবং ‘স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি’ বা মোহাজির সম্প্রদায়ের একটি অংশ।
মাত্র মাস খানেক আগে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান তিনি ল্লি সফরে এসেছিলেন। তাঁর দিল্লি সফর নিয়ে কম জল্পনা-কল্পনা হয়নি।
এও জানা গিয়েছিল, খলিলুরের হাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল একটি তথ্যপ্রমান সমৃদ্ধ ফাইল তুলে দিয়েছিলেন। সেই ফাইলে উল্লেখ ছিল বাংলাদেশের একাধিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তাতে পাকিস্তানের কোন কোন জঙ্গিগোষ্ঠী এবং কম্যান্ডার রয়েছেন তার সবিস্তার তথ্য । যদিও অজিত দোভালের আগে বেশ কিছু তথ্য জেনারেল ওয়াকারের হাতে তুলে দিয়ে এসেছিলেন ভারতের মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের চার উচ্চপদস্থ কর্তা। ভারত সবরকম ভাবে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে,,কিন্তু ইউনুসের সরকার কি করল ফুতকারে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াকারও ভারতের দাবির সপক্ষে কোনও কর্ণপাত করেনি..
বাংলাদেশে জঙ্গী ঘাঁটি গড়ে উঠল কি উঠল না তাতে কিছু এসে যায় না ইউনুসের..কারন ইউনুস তো চান বাংলাদেশ গোল্লায় যাক…কিন্তু বাংলাদেশ চুপ করে বসে থাকতে পারে। ভারত কি পারে চুপ করে বসে থাকতে। নাকি ভারত কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে?
হ্যাঁ, ভারত ব্যবস্থা নিয়েছে…‘চিকেনস নেকে’র সুরক্ষায় আরও তৎপর বিএসএফ, ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরায় চলছে নজরদারি। নতুন করে বাংলাদেশে অশান্তির ঘটনায় কড়া নজর রাখছে দিল্লি। শুধু তাই নয়, অশান্তির আঁচ যাতে কোনওভাবে বাংলায় এসে না পড়ে সেজন্য সতর্ক সীমান্তরক্ষী বাহিনীও। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ মিলিয়ে ছয় জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এই ১ হাজার ৪০০ কিমির মধ্যে ১৯৫ কিমি জুড়ে নদী এবং জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। কোচবিহারের ৫৫০ কিমি, দক্ষিণ দিনাজপুর, ২৫০ কিমি। উত্তর দিনাজপুরে রয়েছে ২২৭ সীমান্তে চলছে কড়া পাহারা ।
‘শিলিগুড়ি করিডোর’ রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ির বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় গড়ে ওঠা তিনটি সামরিক ঘাঁটিকে সতর্ক করা হয়েছে। হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখা হয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন মিগ ভ্যারিয়েন্ট ও ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র।
ভারত যানে নিজের ঘর সামলাতে। কিন্তু বাংলাদেশ তারা কি পারল নিজেদের ঘর সামলাতে। যদি সত্যই সামলাতে পারত তাহলে ড্রোন হামলার ঘটনা কি ঘটত বাংলাদেশে।
তাও একটা-দুটো নয়, একসঙ্গে দশ থেকে বারোটি জায়গায় আচমকা হামলা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। যদিও এই বিষয়ে মুখে বাংলাদেশ সরকার বা সেনার…জানা যাচ্ছে,
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে ড্রোন হামলা হয়েছে। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে সেটা স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ দাবি করেছেন, এই ড্রোনগুলি মায়ানমারের দিক থেকে এসেছে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই আঘাত হেনেছে। আর এই মামলায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি জঙ্গি কম্যান্ডার ও প্রশিক্ষণরত যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বস্থ সূত্র দাবি করছে, এত নিখুঁত ভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে, যে শুধুমাত্র জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ব্যতীত আশেপাশে অন্য কোনও অঞ্চলের ক্ষতি হয়নি। সিলেট, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি জায়গায় এই হামলা হয়েছে। তবে কেউ এর দায় স্বীকার করেনি। বাংলাদেশের তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ এই মুহূর্তে ভারত-বিরোধিতায় এতটাই ব্যস্ত যে, তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ইউনুস। অন্যদিকে বাংলাদেশের উপর পাল্টা চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে ভারতও । একাধিক ভিসাকেন্দ্র ভারত ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে। উত্তাল বাংলাদেশের ঘটমান পরিস্থিতির দিকে ক্রমাগত নজর রাখছে নয়াদিল্লি। যতই ইউনুস সকলকে শান্ত থাকার কথা বলে আশ্বস্ত করুন না কেন, বাংলাদেশের অন্দরে খুব ইতিবাচক পরিস্থিতি নেই এই মুহূর্তে। তবে ঘটমান হিংসার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ইউনুসের তাঁর দফতর যাবতীয় ঘটনা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছে ‘দ্ব্যর্থহীন ভাবে’। বলা হয়েছে, ‘‘যাঁরা বিশৃঙ্খলাকে পুঁজি করে এবং শান্তির পথকে উপেক্ষা করে, তাঁদের জন্য অগ্রগতিকে ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।’ কিন্তু আদেও বাংলাদেশের কতটা অগ্রগতি হবে সেটার উত্তর একমাত্র জানে পদ্মাপাড়ের দেশটি…২০২৪ -এর জুলাই-আগস্টে যে ভাবে অশান্ত হয়েছিল বাংলাদেশ, সেই ঘটনা আবার ফিরে আসবে না তো…..আশঙ্কায় বাংলাদেশ…