ককরোচ জনতা পার্টির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়।

শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : দেশের রাজধানী দিল্লিতে যন্তর মন্তরের রাজপথে হাজার-হাজার ছাত্র-যুবক শামিল হয়েছিল প্রথম অন-গ্রাউন্ড কর্মসূচিতে। তারপর আন্দোলন আরও শক্তিশালী করতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর মারাত্মক প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং CBSE-র খাতা মূল্যায়নে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে এবার দ্বিতীয় দফা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে এই সংগঠন।
সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপানো এই ভার্চুয়াল ফ্রন্টের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ১১ জুন তারা মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত শিক্ষানগরী তথা অক্সফোর্ড অব দ্য ইস্ট নামে পরিচিত পুনে শহরের সাবিত্রি বাই ফুলে ইউনিভার্সিটিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করবে।
ককরোচ জনতা পার্টির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ এই নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা যুব আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ অভিজিৎ দিপকে নিজে সেই পোস্টটি শেয়ার করে মহারাষ্ট্রের ছাত্রসমাজকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিজেপির অফিশিয়াল পোস্টে কড়া ভাষায় লেখা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের শিক্ষানগরী পুনেতে দাঁড়িয়ে এবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলবে আরশোলারা। পুনে শহরের কতজন আরশোলা এই লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন?
দলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ১১ জুন বিকাল ঠিক ৪টের সময় পুনের সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে ইউনিভার্সিটি-র মূল চত্বরে এই বিক্ষোভ প্রদশর্ন করা হবে। দলনেতা অভিজিৎ দিপকে এই নিয়ে চরম উদ্দীপনা প্রকাশ করে মারাঠি আবেগকে উস্কে দিয়ে লিখেছেন, চলুন এবার পুনেতে দেখা হচ্ছে। জয় মহারাষ্ট্র।
নিট এবং সিবিএসই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ক্যাবিনেট থেকে সরাতে বা তাঁর পদত্যাগের জন্য মোদী সরকারকে ইতিমধ্যেই ৭ দিনের এক চরম সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন বোস্টন ফেরত যুবনেতা অভিজিৎ দিপকে। রবিবারই তিনি এক্স হ্যান্ডেলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ তো ছিল স্রেফ ট্রেলার, আসল সিনেমা এখনও বাকি আছে। সরকারের ওপর সেই চাপ বজায় রাখতেই এবার দেশের অন্যতম প্রধান ছাত্র ও শিক্ষা কেন্দ্র পুনে বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
অবশ্য কেবল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন থেকে নারী সরক্ষণ-দুর্নীতি মুক্ত দেশ গঠনে ৫ টি মৌলিক দাবি তুলেছে সিজেপি। ককরোচ জনতা পার্টির এই ৫ দাবি কী কী?
বিচার বিভাগীয় সংস্কারঃ ইদানীংকালে দেখা গিয়েছে অবসর গ্রহণের পর সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতি রাজ্যসভার কিংবা কোনও সরকারি পদে বসছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা আদতে রাজনৈতিক পুরস্কার। সিজেপি দাবি তুলেছে, সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতিকে অবসর গ্রহণের পর রাজ্যসভার আসন বা অন্য কোনও সরকারি পদে বসানো যাবে না। বলা বাহুল্য, বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই দাবি তোলা হয়েছে।
নির্বাচনী জবাবদিহিঃ পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর-এ অসংখ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। লক্ষাধিক নাম এখনও বিচারাধীন। ইতিমধ্যে ভোট মিটে ক্ষমতার বদল হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, কোনও বৈধ নাগরিকের নাম যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে তাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে হবে। এই গাফিলতির দায়ে বর্তাবে দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপরে। এই অপরাধে সরাসরি ইউপিএ আইনের আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে।
সংসদে ৫০ শতাংশ নারী সংরক্ষণঃ ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম দাবি হল মহিলা সংরক্ষণ। তাঁরা জানিয়েছেন, লোকসভা, রাজ্যসভা এবং দেশের সমস্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রকগুলিতে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে, এর জন্য সংসদের মোট আসন সংখ্যা বাড়ানো চলবে না বলেও জানিয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যম সংস্কারঃ সাম্প্রতিক সময়ো গোদি মিডিয়া নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় সিজেপি-র দাবি আদানি ও আম্বানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সমস্ত সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রথম সারির বিতর্কিত নিউজ অ্যাঙ্কারদের সম্পত্তির উৎস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে।
দলবদল রুখতে কড়া আইনঃ রাজনীতি ইদানিং দলবদলুদের ভিড়। ক্ষমতায় আসার মরিয়া চেষ্টায় হাইজ্যাক হচ্ছে বিধায়ক থেকে সাংসদ। এই জন্য মোটা টাকা হাতবদল হচ্ছে বলেও অভিযোগ। রাজনৈতিক অধঃপতনের এই যুগে ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম দাবি, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক যদি নিজের দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন, তবে তাঁর উপর আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে লড়াই করা বা কোনও সরকারি পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ আর ভয় পায় না। পাশাপাশি বলেন, তাঁদের লড়াই এখানেই শেষ নয়। ৭ দিনের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তাঁরা দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। আন্দোলনের সাফল্য ব্যাখা করে দিপকে বলেন, আমাদের প্রতিবাদ সফল হয়েছে। ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এই আন্দোলন দিল্লির বাইরেও প্রসারিত হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা পিছু হঠব না। এবং এই আন্দোলনকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে আরও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। শনিবারের এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক।