বাবরি মসজিদ তৈরির বিদেশী টাকার উৎস কি ?

স্বাগতা চন্দ্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: টাকা টাকা টাকা। বাংলার বুকে একটা বাবরি মসজিদ তৈরি হবে। যার অনুদান হিসাবে টাকার বন্যা বইছে। শুধু ভারতীয় মুদ্রা নয় বিদেশি মুদ্রাও ঢুকছে অনুদান স্বরূপ। ১২টি অনুদান বাক্স  উপচে পড়েছে। শিলান্যাসের মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর অবশ্য বলেছিলেন বাবরি মসজিদ তৈরিতে টাকার অভাব হবে না। মসজিদ তৈরিতে তিনি বাজেট দিয়েছিলেন ৩০০ কোটি টাকার। অথচ যে হারে টাকা ঢুকছে তাতে করে অনেকেই বলছেন ৩০০ কোটি টাকার টার্গেটের থেকে বেশি টাকা মিলবে অনুদান স্বরূপ। সেই ছবিই তো ধরা পড়ছে অনুদানের টাকা গোনার ক্ষেত্রে। মঙ্গলবার পর্যন্ত টাকার পরিমাণ সাড়ে তিন কোটি ছাড়িয়েছে। যে হারে বিদেশি মুদ্রা অনুদান স্বরূপ ঢুকেছে তাতে করে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বিদেশি টাকা উৎস নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ মঙ্গলবার বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তলব করে স্টেট ব্যাঙ্ক। যদিও বিদেশি মুদ্রা প্রাপ্তির স ত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন কাতার, সৌদি আরব, বাংলাদেশ থেকে আসছে টাকা। যা স্টেটব্যাঙ্কের চলতি অনুমোদিত আইন ও লিমিট অতিক্রম করে গেছে।

রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি তদন্তের দাবি করেছে। যদিও এইসব প্রশ্ন, বিতর্ক নিয়ে ভাবিত নন হুমায়ুন কবীর। তিনি আছেন আপন ছন্দে। ২২ ডিসেম্বর নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ নিয়ে বেজায় ব্যস্ত তিনি। তৃণমূল দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এই সিদ্ধান্ত যে কোনও বিধায়কের কাছেই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু হুমায়ুন কবীর আছেন বহাল তবিয়তে।  বাবরি মসজিদের শিল্যনাসের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে সমর্থন হুমায়ুন কবীর পাচ্ছেন তাতে করে তাঁর পায়ের তলায় রাজনৈতিক জমি টালমাটাল নয় বরং আরও শক্ত  হচ্ছে। যা বেগ দিতে পারে শাসক দলকে। কারণ হুমায়ুন কবীরের টার্গেট রাজ্যের প্রায় ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। যা নিয়েও হুমায়ুন কবীরও আশাবাদী। নিজেকে তো তিনি রাজনীতৈক গেমচেঞ্জার হিসাবে তুলে ধরছেন। এখনও তাঁর দল আত্মপ্রকাশ করল না অথচ তাঁর দাবি,  “২৬ এর বিধানসভা ভোটে আমার দল বড় ফ্যাক্টর হবে। তৃণমূল বা বিজেপি কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গড়তে হলে আমাকেই দরকার হবে। মুখ্যমন্ত্রী যেই হন, আমাকে নিয়েই সরকার গড়তে হবে।”

কীসের বলে এত বড় আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন হুমায়ুন সাহেব। এখানেই শেষ নয় তাঁর আরও দাবি। নিজেকে তিনি বাংলার ওয়াইসি আখ্যা দিচ্ছেন। এমনকি ওয়াইসির মিমের সঙ্গে তিনি জোট বাঁধার কথা বলেছেন। যদিও মিমের জাতীয় মুখপাত্র দাবি করেছেন তাঁরা হুমায়ুনের সঙ্গে কোনও জোট বাঁধবেন না। তাঁদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কানি দিয়ে রাজনীতি করার সমর্থন নেই। তবে হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে উস্কানি দিচ্ছেন, বাবরি মসজিদ তৈরি করে রাজনৈতিক ফয়দা তুলতে চাইছেন।  এইসব প্রশ্নেই আড়াআড়ি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে হুমায়ুন কবীরের ধর্ম ভাইদের মধ্যে। এই যেমন বাবরি মসজিদের শিলান্যাসে সৌদি আরবের দুই ক্কারীকে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজ্যেরই দুই ইমামকে দিয়ে তিনি মসজিদের শিল্যান্যাস করেছেন। উঠেছে ধর্মীয় প্রতারণার অভিযোগ। কারণ যে দুজন এসেছিলেন তাঁরা সৌদি আরবের নয়। একজন মুর্শিদাবাদ ও আরেকজন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। হুমায়ুন কবীরের অস্বস্তি বাড়িয়ে এক মধ্যস্থতা কারীর দাবি হুমায়ুন সাহেব বিমানের টিকিটের টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌদি আরবের মেহমান আনা সম্ভব হয়নি। মঞ্চে ভিড়ের মধ্যে নাকি তা আর বলা হয়ে ওঠেনি। যদিও হুমায়ুন সাহেব এটাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁকে অপদস্থ করার পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। নাম না করে তাঁর অভিযোগের আঙুল রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দিকে। তবে কি হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির আস্ফালনকে কি ধর্ম ভাইরা মেনে নিতে পারছেন না। নাকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঐক্যে তৈরি হচ্ছে বিভেদের ফাটল। সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির ভিত্তি প্রস্ত বেশ ঝড় তুলেছে। যা ২৬ শের ভোটে প্রভাব পড়তে ফেলতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এখন দেখার আগামী ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ফের কতটা আলোড়ন তোলে।