ISKCON মিড ডে মিলের মেনুতে কী কী রাখবে?

“শুধু মাছ, মাংস, ডিমেই প্রোটিন থাকে, তেমনটা নয়, ISKCON যে মিড ডে মিল তৈরি করে, তাতে প্রোটিনের পরিমাণ পর্যাপ্ত রাখা হয়। “

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা এলাকায় থাকা স্কুলগুলির জন্য ইসকনের (ISKCON) সহযোগিতায় মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে এ বার। দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মতো আট রাজ্যে ISKCON মিড-ডে মিল সরবরাহ করে। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে এ বার কলকাতার স্কুলগুলিতেও পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ISKCON-কে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে তো স্কুল পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারের পাতে আর ডিম পড়বে না। বিকল্প হিসেবে কী পড়বে পাতে? তিনিই জানালেন, কী চমক অপেক্ষা করছে কলকাতার পড়ুয়াদের জন্য।

রাধারমণ দাস জানান, ISKCON এই মুহূর্তে ভারতের ৮টি রাজ্যের ২১-২২টি শহরের স্কুলে মিড ডে মিল দেয়। প্রতিদিন ১২ লক্ষ জনের মিড ডে মিল দেওয়া হয়। সকলেই সেই মিলের প্রশংসাও করেন।

কিন্তু মেনু কী ভাবে ঠিক করা হয়? রাধারমণ দাস জানান, যে রাজ্যে যেমন খাবারের চল বেশি, সেই দিকটা খেয়াল রেখেই মেনু সাজানো হয়। উত্তর ভারতের রাজ্য হলে প্রাধান্য পায় রুটি। মহারাষ্ট্রে ইডলি, সম্বার, খিচুড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে থাকে। তবে খিচুড়ি মানে রোজ একই রকম খিচুড়ি নয়। রাধারমণ দাস বলেন, ‘বাচ্চারা তো নানা রকমের স্বাদ খোঁজে।’

সেই হিসেবেই বাংলার স্কুলগুলিতে ভাত তো থাকছেই। রাধারমণ দাসের কথায়, ‘রাইস তো থাকবেই। ডাল, সবজিও থাকবে। সবজির মধ্যে তরকারির পাশাপাশি রাখা হবে ছানা, পনির, সোয়াবিন, রাজমা। খিচুড়িও দেওয়া হবে। আমরা মেনুটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাখব। ভালো জিনিস দিয়ে রান্না হবে।’ রাধারমণ জানান, মহারাষ্ট্রেও বহু বাচ্চাই নন-ভেজ খাবার খায় বাড়িতে। কিন্তু ISKCON-এর মিড ডে মিলের জন্য অপেক্ষা করে থাকে তারা।

শুধু মাছ, মাংস, ডিমেই প্রোটিন থাকে, তেমনটা মনে করেন না রাধারমণ দাসও। তিনি জানান, ISKCON যে মিড ডে মিল তৈরি করে, তাতে প্রোটিনের পরিমাণ পর্যাপ্ত রাখা হয়। সোয়াবিন, রাজমাতেও যথেষ্ট প্রোটিন রয়েছে।
তাঁদের কিচেনে হাত ছোঁয়ানো হয় না। সবই অটোমেটেড মেশিনে হয়। টেকনোলজিকে ব্যবহার করে ফাইভ স্টার হাইজিন বজায় রেখে খাবার তৈরি হয়। তাঁদের কিচেন সার্টিফায়েড। খাবারের মান তাঁদের কাছে মুখ্য। ডায়েটিশিয়ান তাঁদের রোজের মেনু ঠিক করে দেন। নিয়মিত তা বদলও হয়।

এ তো গেল মেনু, সেফ্টি সিকিউরিটির বিষয়। এর পরে সেই খাবার কী ভাবে স্কুলগুলিতে যাবে? রাধারমণ দাস জানান, খাবার নির্দিষ্ট ভাবে প্যাকিং করে তাতে সেফ্টি ট্যাগ লাগিয়ে নির্দিষ্ট সংগঠনের মাধ্যমে স্কুলে স্কুল লাঞ্চ টাইমে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাদের বলাই থাকবে, কোনও প্যাকেটে ট্যাগ ভাঙা থাকলে, সেই খাবার যেন কাউকে না দেওয়া হয়।

গত সরকারের আমলে মিড ডে মিল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। অভিযোগ ছিল, খারাপ চাল, ট্যালটেলে ডাল, সবজি নামমাত্র, ডালের মতোই স্বাদ ডিমের ঝোলের, কালেভদ্রে মাংসের ঝোল। অভিযোগ, গলা দিয়ে নামে না সে খাবার। নতুন সরকার আসার পরেই বরাদ্দ বাড়িয়েছে মিড-ডে মিলে।

রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের উপকরণের খরচের জন্য পড়ুয়া প্রতি ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে বাজেটে। একই সঙ্গে 6বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কলকাতা পুর এলাকায় যে সরকারি স্কুলগুলি রয়েছে, সেখানে মিড ডে মিল দেবে ISKCON।