ভারত কি সরাসরি মধ্যস্থতা করবে? এর উত্তরটি কিছুটা জটিল এবং কৌশলগত।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। ভারত কি সরাসরি মধ্যস্থতা করবে? এর উত্তরটি কিছুটা জটিল এবং কৌশলগত।
বর্তমানে ভারতের অবস্থান ঠিক কীরকম দেখে নেওয়া যাক।
১. শান্তির পক্ষে বার্তা, কিন্তু সরাসরি “মধ্যস্থতাকারী” নয়
ভারত এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে সরাসরি মধ্যস্থতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত অন্য কিছু দেশের মতো (যেমন পাকিস্তান) এই সংকটে “দালাল” বা “ব্রোকার” হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায় না। তবে ভারত ধারাবাহিকভাবে “সংলাপ ও কূটনীতি” (Dialogue and Diplomacy)-র মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

২. প্রধানমন্ত্রী মোদীর সক্রিয় যোগাযোগ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সংকটের শুরু থেকেই ইরান, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে:
বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং জ্বালানি বা পরিবহন পরিকাঠামোর ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সচল রাখা এবং বিশ্ব বাণিজ্য রক্ষা করা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৩. ভারতের প্রধান অগ্রাধিকারসমূহ
ভারত বর্তমানে মধ্যস্থতার চেয়ে নিচের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে:
প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে সরিয়ে আনা (যেমন ‘অপারেশন’-এর মাধ্যমে প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে) সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
জ্বালানি নিরাপত্তা: যুদ্ধের কারণে অশোধিত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য ভারত ৪১টি ভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির ব্যবস্থা করেছে।

৪. কেন ভারতকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী মনে করা হয়?
আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের একটি স্বতন্ত্র গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কারণ:
ভারতের সাথে ইজরায়েল এবং ইরান—উভয় দেশেরই শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে।
ভারত একদিকে যেমন আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এবং আরও কিছু বিশ্বনেতা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ভারতের সেই কূটনৈতিক ওজন রয়েছে যা এই উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভারত সরাসরি কোনো শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করার বদলে বর্তমানে “পর্দার আড়ালে কূটনীতি” (Back-channel Diplomacy) ব্যবহার করছে। ভারত নিজেকে একটি “শান্তি স্থপতি” (Peace Architect) হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যারা উভয় পক্ষকে যুদ্ধের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।