পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবীরের। পুলিশি চক্রান্তের ব্লুপ্রিন্ট নাকি তার হাতে এসে গেছে। আগামী দিনে তা নিয়েই আন্দোলন, প্রতিবাদে নামতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : ৬ ডিসেম্বর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিনই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন বাবরি মসজিদ তৈরি হবেই। ধর্মভাইদের দেওয়া কথা রাখতে বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ শুরু করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। ১১ ফেব্রুয়ারি বেলডাঙার মাটিতে উঠল হুমায়ুন কবীরের নামে জয়ধ্বনি। জানেন কি কতদিনে তৈরি হয়ে যাবে বাবরি মসজিদ। এদিন মঞ্চ থেকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন হুমায়ুন সাহেব। কিন্তু চিন্তার মেঘ ছেয়েছে হুমায়ুন কবীরের পরিবারে। শেষে কিনা হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পুলিশের হানা। ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। তবে কি এর পিছনে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত। পুলিশের দাবি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের রমারমা রুখতে এই পদক্ষেপ। হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মাদকপাচারের যোগ কীভাবে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এরমাঝেই পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি হুমায়ুন কবীরের। পুলিশি চক্রান্তের ব্লুপ্রিন্ট নাকি তার হাতে এসে গেছে। আগামী দিনে তা নিয়েই আন্দোলন, প্রতিবাদে নামতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। কী সেই চক্রান্ত যার হদিশ পেলেন হুমায়ুন কবীর। জানতে হলে স্কিপ না করে দেখুন পুরো ভিডিওটি । তাহলেই বুঝতে পারবেন আগামীতে কি ঘটতে চলেছে রাজ্য রাজনীতিতে। ১১ ফেব্রুয়ারি কোরাণপাঠের মাধ্যমে শুরু হল বাবরি মসজিদ তৈরির কাজ। বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিন যেমন উন্মাদনা ছিল ঠিক তেমনই ধরা পড়ল মসজিদ তৈরির কাজ শুরুর দিনই। দুবছরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
বাবরি মসজিদের কাজ তো শুরু হল কিন্তু হুমায়ুন কবীরের পরিবারে যে পুলিশি নজর পড়েছে তার কী হবে। শেষে কিনা তাঁকে ছেড়ে তার মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের ধরে টানাটানি। তবে কি হুমায়ুন কবীরকে শায়েস্তা করতে উল্টো চাপ। নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও গভীর চক্রান্ত। যদিও হুমায়ুন কবীর বলছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশি পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের মেয়ে সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। ১০ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। পুলিশের দাবি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারের রমরমা রুখতে এই পদক্ষেপ। কিন্ত হুমায়ুন কবীরের মেয়ে ও তার শ্বশুড়বাড়ির সঙ্গে মাদকচক্রের যোগাযোগ নিয়ে এখনও কিছু পরিস্কার করেনি পুলিশ। গত সোমবার সন্ধেয় লালগোলা থানার পুলিশ একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর লারলাগোলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি লজ, বলরামপুর এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নলডিহি গ্রামে একটি বসতিবাড়ি ফ্রিজ করা হয়েছে। এই সম্পত্তি গুলি সবই হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা, জামাই রাইহান আলি ও তার পরিবারের নামে নথিভুক্ত। এমনকি দুটি গাড়ি ও ১৫ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কার নির্দেশে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীরের দাবি তাঁর হাতে প্রমাণপত্র রয়েছে। কীভাবে চক্রান্ত করে তাঁর পরিবারকে হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজের দিকে। হুমায়ুন কবীররে নিশানায় রয়েছেন লালগোলার ওসি, সিআই ও ভগবান গোলার এসডিপিও।
এদিকে হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূলের বি টিম বলে কটাক্ষ করে এই পুলিশি হেনস্থাকে দলের অন্দরের অশান্তি বলে এড়িয়ে যেতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
অনেকেই আবার হুমায়ুন কবীরের পাশে দাঁড়িয়ে হঠাত করে পুলিশি ততপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এতদিন কী করছিল পুলিশ। হুমায়ুন কবীর তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর নতুন দল খুলে সোচ্চার হতেই কি পুলিশি তৎপরতা। নাকি হুমায়ুন কবীরের খেলা অন্যদিকে ঘোরাতে একটু কি ষাঁড়াশি চাপ দেওয়া। এমনিতেই হুমায়ুন কবীরকে গদ্দার বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি গদ্দারকে সবক শেখাতেই এই প্রয়াস। নাকি সংখ্যালঘু ভোট চলে যাওয়ার ভয়ে হুমায়ুন কবীরের কণ্ঠরোধের চেষ্টা । নানাদিকে নানা প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার কীভাবে এই চাপ সামাল দিতে পারেন হুমায়ুন কবীর।