
অনুসুয়া দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ। সেই তালিকায় দেখলেন আপনার নাম নেই। বা ধরুন আপনার বাড়ির কোনও এক সদস্যের নাম নেই। কী করবেন তখন? কাকে অভিযোগ জানাবেন? কী করে অভিযোগ জানাবেন ? অভিযোগ জানানোর পরেও কি সমস্যার সমাধান হবে ? সমস্যার সমাধান হতে কতদিন সময় লাগবে ? তার জন্য কী কী নথি জমা দিতে হবে? কমিশন জানাচ্ছে মাত্র একটা নথিতেই সব সমস্যার সমাধান। কিন্তু কী সেই নথি ? কোথায় বা জমা দেবেন সেই নথি ?কী বলছে কমিশন ? জানতে হলে দেখতে হবে এই পুরো ভিডিওটি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রথম পর্ব সমাপ্ত হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই যাচাই এবং শুনানি পর্ব শুরু । প্রতিটি জেলায় জেলাশাসক বা ডিএমের কার্যালয়ে হবে শুনানি। জারি হয়েছে শুনানি পর্বের ওয়েব কাস্টিংয়ের নির্দেশ। অর্থাৎ, গোটা প্রক্রিয়া ক্যামেরায় নজরদারি করবে কমিশন। সেই প্রক্রিয়ায় নজরদারি চালাবেন কমিশন কর্তারা। সেই সঙ্গে সব ফুটেজ সংরক্ষণও করা হবে । এখনও পর্যন্ত কমিশনের খাতায় বাদ যেতে বসেছে প্রায় ৫৭ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে রয়েছে মৃত, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটাররাও। মৃত- ২৪, ১৪, ৭৫০ জন ভোটার, স্থানান্তরিত- ১৯, ৮৯, ৯১৪ জন ভোটার, নিখোঁজ- ১১, ৫৭, ৮৮৯ জন ভোটার, ডুপ্লিকেট- ১, ৩৫, ৬২৭ জন ভোটার এবং অন্যান্য- ৫৪, ০২৭ জন ভোটার (১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত)। ২০০২ সালে নাম আছে- ২, ৯৩, ৫২, ৮৯৩ জনের, ২০০২ সালে নাম নেই- ৩, ৮৪, ৮৫, ১৬৬ জনের, ফর্মের নিচের অংশ পূরণ করেনি ৩০ লক্ষ ভোটারের।

বৃহস্পতিবার কিছুটা হলেও বাড়তে পারে এই সংখ্যাটা। ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর। এই চার দিন পুরোপুরি বরাদ্দ হচ্ছে ত্রুটি পুনর্যাচাই-সংশোধনের জন্য। কারণ, এত দিন ধরে কমিশনের প্রযুক্তিতে এসআইআর-তথ্যে অনেক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ত্রুটিগুলি চিহ্নিত করা হয়ে গেলে অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ পাবে খসড়া ভোটার তালিকা। তাহলে কী দাঁড়াল। এসআইআরের প্রথম পর্বের পর যদি কোনও ভুল থেকে যায়, তার জন্য চারদিন বরাদ্দ করা হল, তারপর চারদিনের মাথায় প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এত অবদি বোঝা গেল.. এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন, বিএলও তা ডিজিটালাইজেশনও করেছেন। কোনও ভুল ত্রুটি থেকে থাকলে কমিশনের তরফে অতিরিক্ত চারদিন সময় দেওয়া হয়েছে. তা ঠিক করার জন্য। তারপর প্রকাশ করা হবে খসড়া ভোটার তালিকা। কী ভাবে দেখতে পারবেন প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র (বুথ), বিধানসভা, জেলা অনুযায়ী এসএসডি ভোটারদের, নাম পরিচয় প্রকাশিত হবে খসড়ার সঙ্গে পাওয়া যাবে জেলাশাসকের ওয়েবসাইটে। রাজ্যভিত্তিকভাবেও দেখা যাবে তালিকা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) ওয়েবসাইটে। তালিকা দেওয়া হবে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) ও রাজনৈতিক দলগুলির মনোনীত বিএলএ-দের হাতে।
সেই তালিকা আপনি দেখলেন, কিন্তু আপনার নাম খুঁজে পেলেন না। দেখলেন কোনও কারণ বসত আপনার নাম ভোটার তালিকায় নেই, তখন কী করবেন, কার কাছে যাবেন, কী বা করণীয় রয়েছে আপনার। চিন্তার কিছু নেই। এর জন্যও পথ দেখাল কমিশন। খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ ডিসেম্বর। সেই তালিকায় নাম না থাকলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। খসড়া তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তালিকা প্রকাশের দিন থেকেই শুনানির নোটিস পাঠানো হবে ভোটারদের। ওই দিনই শুরু হবে শুনানি প্রক্রিয়া। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। নির্ধারিত শুনানির দিন উপস্থিত হতে না পারলে চিন্তার বিষয় নেই। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হবে নাম না থাকা ভোটারদের। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা। অর্থাৎ আনম্যাপ ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হবে। নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত হয়ে কমিশনের নির্ধারিত। ১১টি নথির মধ্যে একটি পেশ করতে হবে। জেলাশাসক, এসডিও বা বিডিও কার্যালয়ের ধারে কাছেই হবে শুনানি কেন্দ্র।
বিধানসভা ভিত্তিক শুনানি শিবিরের আয়োজন করা হবে। যে এলাকায় যত বেশি নাম বাদ যাবে, সেই এলাকায় তত বেশি শুনানি শিবির হবে। প্রতি ব্লকের শিবিরগুলির প্রধান দায়িত্বে থাকবেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও।