আমাদের অধিকাংশের বিভিন্ন সময়ে কোন না কোন কারণে উদ্বেগের অনুভব হয়। সাধারণত এটি স্বাভাবিক, যা সময়ের সাথে সাথে ঠিক হয়ে যায়।কিন্তু কখনো কখনো তা সমস্যা তৈরী করতে পারে । নানা কারণে হতে পারে উদ্বেগ। জীবনের কোন খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে যেমন উদ্বেগ হয় তেমনি ভালো কোন কিছুর কারনেও হতে পারে অ্যাংজাইটি।

মৌসুমী সাহা, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- চিন্তা যখন এমন চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছয় যেখানে শরীর প্রভাবিত হয়, শারিরীক কাজকর্ম ব্যাহত হয়, তখন সেই মানসিক অবস্থা কে দুশ্চিন্তা বলে। দুশ্চিন্তার সাথে একযোগে আসে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার এবং ট্রমা ।মাদক সেবন দুশ্চিন্তার কারণ যেমন হতে পারে তেমনি পারিবারিক ইতিহাসও হতে পারে এর কারণ।

কীভাবে বুঝবেন আপনি উদ্বেগের শিকার। নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায় এক্ষেত্রে, যেমন ঘুমের সমস্যা, বুক ধরফর, শ্বাসকষ্ট, হাত পা ঝিনঝিন করা, ঘাম দেওয়া, মাথা ঘোরা, বমিভাব এবং পেশি টানটান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা যায়, যেমন হার্টের সমস্যা, ফোবিয়া, এমনকি কখনো কখনো আত্মহননের প্রবনতা ও দেখা যায়। প্যানিক অ্যাটাক এর সম্ভাবনা দেখা যায় কখনো কখনো।

এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন না। তার ফলে দেখা যায় জটিলতা। রোগীর সাথে কথা বলার মাধ্যমে রোগীর অনুভূতি জেনে তার মানসিক বিষয়ে জানা না গেলে সমস্যা বাড়ে বই কমে না। কাউন্সেলিং, সাইকো থেরাপি,পরিবারের সকলের সহযোগীতার মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই ফ্যামিলি থেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ, তবে রোগীর প্রয়োজনে মেডিসিন দিয়ে থাকেন চিকিতসকেরা।
লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন জীবনে উদ্বেগকে দুর করতে। মেডিটেশন,ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে,যা কিনা উদ্বেগের কারণ। তবে মনে রাখতে হবে যে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধ খাবেন না। আর চিকিৎসা চললে তা মাঝপথে বন্ধ করবেন না।