সৌদি আরবে ১৯ মার্চ চাঁদ দেখা গেলে সেখানে ২০ মার্চ ইদ পালিত হতে পারে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পবিত্র রমজান মাসের অবসান ঘিরে দেশ-বিদেশে উৎসবের আমেজ। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব Eid ul-Fitr কবে পালিত হবে, তা চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করছে।
ইসলামিক চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী, রমজান বছরের নবম মাস। এই সময় জুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করেন। নমাজ আদায় করেন এবং আত্মসংযম ও মানবিকতার বার্তা ছড়ান। সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখার পর শেষ দিনে চাঁদ দেখা গেলে রমজানের সমাপ্তি ঘটে এবং শুরু হয় শাওয়াল মাস। সেই অনুযায়ী পরের দিনই উদযাপন হয় ইদ-উল-ফিতর।
২০২৬ সালে ইদের দিনক্ষণ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে ঘোষণা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে ইদের দিন নির্ধারণ করছে। জানা গিয়েছে, বাহরাইনে এ বছর ২০ মার্চ ইদ পালনের ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ নির্দিষ্ট দিনে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। অন্যদিকে, কাতার সরকার ইদ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটির ঘোষণা করেছে।
সৌদি আরবে চাঁদ কখন দেখা যাবে, তা চূড়ান্ত নয়। ১৯ মার্চ চাঁদ দেখা গেলে সেখানে ২০ মার্চ ইদ পালিত হতে পারে। আর যদি সেদিন চাঁদ না দেখা যায়, তবে পরের দিন চাঁদ দেখা গেলে ২১ মার্চ উৎসব উদযাপন করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে ভারতের ইদের দিনক্ষণ।
ভারতেও ইদের তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। সাধারণত সৌদি আরবের ঘোষণার একদিন পর দেশে ইদ পালিত হয়। সেই হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে, এ বছর ভারতে ২১ মার্চ, শনিবার ইদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে চাঁদ দেখার পরই।
ইদের দিন সকালে মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে বিশেষ নমাজ আদায় করেন। তারপর একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাড়িতে তৈরি হয় সেমাই, ক্ষীর-সহ নানান মিষ্টান্ন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলনমেলার আবহে এই উৎসব একাত্মতার বার্তা দেয়।
সব মিলিয়ে, চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও উৎসবের আবহের জন্য মানুষ প্রস্তুত।