কবে লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা?

খালেদার লন্ডনযাত্রায় ফের জটিলতা!

জুলেখা নাসরিন, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ এখনও সংকটজনক বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া..এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রা নিয়ে ফের জটিলতা। ফের পিছিয়ে গেল তাঁর লন্ডন যাত্রা। খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রবিবার লন্ডনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স সংক্রান্ত জটিলতাও ছিল বলে খবর। সে সময় ঢাকায় কোনও এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছোয়নি।

বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ক বেশ ভালো। ফলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা ছিল কাতারের। এই পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনুস সরকারের দ্বারস্থ হয় বিএনপি। অন্তবর্তী সরকারের কাছে বিএনপি নেতৃত্বের অনুরোধ, সুপ্রিমোকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসায় সাহায্য করুক অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় দল ও তাঁর পরিবারের সমস্ত অনুরোধ সুবিধাজনকভাবে পূরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কবে লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা?

বিএনপির তরফে জানানো হয়, শনিবার কাতারের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছনোর কথা ছিল ঢাকায়, এবং রবিবার সেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডন রওনা দেওয়ার কথা ছিল.. কিন্তু শুক্রবার দলের তরফে জানানো হয়, সেই তারিখও পিছিয়েছে.. অর্থাৎ রবিবার খালেদার লন্ডন যাওয়া বাতিল হয়। ৯ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার খালেদা জিয়াকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিতে পারে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। তবে পরিস্থিতি প্রতিকুল থাকলে সেই তারিখও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাতারের যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স বাংলাদেশে পাঠানোর কথা ছিল সেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, ফলে কাতার বন্ধু বাংলাদেশের জন্য জার্মানি থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ,তবে এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স কবে ঢাকায় পৌঁছোবে, কবেই বা লন্ডনের জন্য রওনা দেবে, তা স্পষ্ট নয়।  অন্য দিকে, যে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা ৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর পৌঁছতে পারে।

প্রথমে ঠিক হয়েছিল, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে লন্ডনে যাবেন তাঁর আত্মীয় ও চিকিৎসক-সহ ১৪ জন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যাতেও কাটছাঁট করা হতে পারে।  তবে বিএনপির তরফে মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগির জানিয়েছেন, নেত্রীর লন্ডন যাত্রা পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর। ২৩ নভেম্বর প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন ৮০ বছর বয়সি খালেদা জিয়া। তাঁর কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস, চোখের সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক জটিলতা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর  অবস্থা ক্রমশ সংকটজনক হতে থাকে। তবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সর্বক্ষণের চেষ্টায় আপাতত স্থিতিশীল বিএনপি সুপ্রিমো। এরপরই তাঁকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কাতার এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দিয়ে সাহায্য করার কথা জানায়। তবে নির্দিষ্ট সময় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় খালেদার লন্ডন যাত্রা তখনকার মতো স্থগিত হয়ে যায়।