ওয়েব ডেস্ক: অনেকেই হয়তো জানেন ‘সুষমা’ তাঁর নাম আর ‘স্বরাজ’ হয়তো তাঁর উপাধি। এই ভুল করতে অধিকাংশ মানুষকেই দেখা যায়। আসলে তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে ছিল যাঁর নাম তিনি আর কেউ নন, সুষমা স্বরাজের স্বামী স্বরাজ কৌশল। রাজনৈতিক থেকে পারিবারিক জীবন, চলার পথে সবসময় পাশে পেয়েছিলেন এই মানুষটিকে। মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, আর তাঁর পরলোক গমনে সবচেয়ে বেশি আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন তাঁর স্বামী স্বরাজ কৌশল। কলেজ জীবনে আইন পড়ার সময় দিল্লিতে আলাপ হয় দুজনের।

কিন্তু দুজনেই ছিলেন বিপরীত ধর্মী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। সুষমা স্বরাজ কলেজ জীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন আরএসএস-এর সংগঠনের সঙ্গে। আর তাঁর স্বামী ছিলেন সোশ্যালিস্ট সাপোর্টার। এরপর দুজনেই সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী হিসাবে জর্জ ফার্নাডেজের মামলা লড়েন এমার্জেন্সির সময়। এমার্জেন্সির সময় ১৩ জুলাই ১৯৭৫ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন সুষমা স্বরাজ ও স্বরাজ কৌশল। কিন্তু সেখানেও বাঁধা এসেছিল সুষমা স্বরাজের রক্ষণশীল পরিবারের তরফে।

Oh !…………… I can help your Sasuraal Walas with Indian Visa so that they don't have to postpone the wedding any further. https://t.co/JxTuD7Anku
— Sushma Swaraj (@SushmaSwaraj) April 3, 2019
গত মাসে ৪৪ বছরের দাম্পত্ব জীবনের সেলিব্রেসন করেন দুজনেই। একসঙ্গে পথ চলার ইচ্ছে ছিল ৫০ বছর। রাজনৈতিক জীবনে চাপের মধ্যেও দাম্পত্য জীবন ছিল হাসিখুশী। তাঁদের একমাত্র কন্যা বাঁসুরি স্বরাজ পেশায় একজন আইনজীবী।
The computer is guilty of separating you. But don't worry. We will send you both in the same batch. https://t.co/ygBoGH1Lux
— Sushma Swaraj (@SushmaSwaraj) May 13, 2018
শেষ কয়েক বছর বিদেশ মন্ত্রীত্বের ভার সামলাতে ভেঙে পড়ছিল তাঁর স্বাস্থ্যের হাল। আর ততই চিন্তিত হয়ে পড়ছিলেন তাঁর স্বামী স্বরাজ কৌশল। চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল দীর্ঘমেয়াদি বিশ্রামের, কিন্তু সেই সময় নিজের জন্য কিভাবেই বা দেবেন একজন দ্বায়িত্ববান বিদেশ মন্ত্রী।

ওয়াল স্ট্রিট জার্লাল-এ সুষমা স্বরাজকে বিশ্বের মধ্যে প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্মান দেওয়া হয়েছিল, কারণ নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রথম পর্বে তিনি বিদেশ মন্ত্রী হিসাবে যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছন তা সম্ভবত ভারতের ইতিহাসে আগে কেউ কখনও দেননি।

ভিসা পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোন জটিলতায় দেশের মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বিপদে পড়লেই প্রথম টুইট করা যেত তাঁকে। কখনও বিয়ে আটকে যাচ্ছে তো কখনও তীর্থ করতে একা হয়ে পড়ছেন দম্পতি, যেখানে দেশের মানুষ বিপদে সেখানেই সরাসরি টুইট করা যেত মন্ত্রীকে। আর সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিতেন সেই টুইটের।

শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশ থেকে দেশে ঘুরতে আসা বহু মানুষও তাঁর স্বহৃদয় সাহায্যে একাধিক সমস্যা থেকে উদ্ধার পেয়েছেন। ২০১৬ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন হওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুষমা স্বরাজ রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কর্ম প্রিয় মানুষটিকে নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে মোটিভেট করতেন তাঁর স্বামী। অবশেষে দলের সিদ্ধান্তে ২০১৯ লোকসভা ভোটে তিনি আর লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের প্রতি যত্ন নিয়ে তিনি এবার সুস্থ্য হবেন এমনটা ভেবে একটু নিশ্চিন্ত ছিলেন তাঁর স্বামী। কিন্তু সেই নিশ্চিন্ত আর বেশি সময় দেয়নি, তাঁর আগেই পরিবারের সকলকে একা করে চলে গেলেন সুষমা স্বরাজ।