কবে ফিরবেন তারেক?

বাংলাদেশে ফিরতে কি ভয় পাচ্ছেন খালেদা পুত্র?

জুলেখা নাসরিন, নিজস্ব সংবাদদাতা: তারেক রহমান কি সত্যিই তাহলে বাংলাদেশে ফিরছেন না ? তাহলে কি নির্বাচনে অংশ নেবেন না তারেক রহমান …বিএনপি-র দায়িত্ব কি নিতে চাইছেন না খালেদা পুত্র … আমরা যারা সাধারন মানুষ, যারা তারেক রহমানের মতো এতো বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই তারা কি করে থাকি, মা-বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে সন্তানের ঠিক প্রতিক্রিয়া হয়, সারাক্ষণ অসুস্থ মা-বাবার পাশে থাকব,তাকে সেবা করব,যাতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন. আর কোনও সন্তান যাদি বিদেশে থাকেন আর বাবা-মা-এর অসুস্থতার খবর পান, তাহলে তিনি কিরবেন, কাজের জায়গায় বসকে বলে ম্যানেজ করবেন অথবা নিজের কাজ বাজি রেখে দেশে ফিরবেন অসুস্থ মা বা বাবার পাশে থাকার জন্য, কিন্তু খালেদা পুত্র তারেক রহমান কি করলেন, ১১-১২ দিন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকলেন আর তার একমাত্র পুত্র তারেক রহমান এই ১১-১২ দিনে সিদ্ধান্তই নিতে পারলেন না তিনি দেশে ফিরবেন কিনা…

অন্তবর্তী সরকারের কথা অনুযায়ী যদি ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়, তাহলে সেই নির্বাচনে কি ভাবে অংশ নেবেন তারেক রহমান..তিনি তো লন্ডনের নিশ্চিত আশ্রয় ছেড়ে কোনওভাবেই বেরতে চাইছেন না..শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপি সমর্থকরা বারবার বলে এসেছেন তারক রহমান দেশে ফিরবেন,,দ্রুতই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান..এমনকি বিএনপি-র তরফে একাধিকবার তারিখ ধরে বলে দেওয়া হয়েছে এই তারিখগুলিতে বাংলাদেশে আসবেন তারেক রহমান, বিএনপি নেতারা এতদিন বলে এসেছেন ৫ অগাস্ট ২০২৫ দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, আবার কখনও বলেছেন ৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, ডিসেম্বরে ফিরবেন তারেক রহমান এমন কথাও শোনা গিয়েছে বিএনপি সমর্থকদের মুখে..কিন্তু তারেক রহমান তিনি কি ভাবছেন…আসলে তারেক রহমান নিজে খুব ভালো করে জানতেন বা জানেন তিনি ফিরবেন না বাংলাদেশে,.. কিছুতেই লন্ডনের আরাম ছেড়ে বাংলাদেশের কানাগলিতে ফিরবেন না খালেদা পুত্র,.. যতই বাংলাদেশের পরিস্থিতি বদলাক না কেন,.. ফলে তারেক রহমানের দেশে না ফেরা অনেক বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে পাদ্মাপাড়ে… তবে তারেক রহমানের বাংলাদেশে আসতে না পারা, সেটা শুধু যে রাজনৈতিক বিতর্ক জন্ম দেবে তাই নয়,, একটা মানবিক সংকটও তৈরি করতে পারে বাংলাদেশে…

বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান,,প্রভাব-প্রতিপত্তিও যথেষ্ট রয়েছে তাদের পরিবারের..ফলে স্বাভাবিক ভাবে দেশে ফিরে কি খাবেন, কোথায় কাজ করবেন সেই চিন্তা করতে হবে না তারেক রহমান বা তার পরিবারকে…এমনকি দেশে ফিরে থাকার জায়গার চিন্তাও করতে হবে না রহমান পরিবারকে..কারন সেই চিন্তা ইতিমধ্যে করেছে ইউনুসের অন্তবর্তী সরকার…ইউনুস সরকার ইতিমধ্যে গুলশান অ্যাভিনিউতে তারেক রহমানকে একটি বাড়ি দিয়েছে..দেড় বিঘা জমির উপর সেই বাড়ি নির্মিত… মে মাসে বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবেইদা রহমান নিজের হাতে সেই বাড়ি সাজিয়েও গিয়েছেন,,তাহলে সমস্যা কোথায় দেশে ফিরতে তারেক রহমানের..নাকি নিজেই সেই সমস্যা তৈরি করছেন তারেক রহমান.. অনেকে হয়তো এটা বলতে পারেন, তারেক রহমান অনেক বড় মাপের একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, তাদের পরিবার বাংলাদেশে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন, ফলে আর পাঁচ জন সাধারণ মানুষ যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না তারেক রহমান…অনেক ভেবে চিন্তে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তারেক রহমানকে.আবেগ দিয়ে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না…এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তো এই প্রশ্ন তুলবেন, যে রাজনৈতিক নেতা বিদেশের স্থায়ী আরামদায়ক আবাস ছেড়ে মা এর অসুস্থতার খবর শুনেও, দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না সেই সিদ্ধান্ত ১১-১২ দিনের মধ্যেও নিতে পারেন না,,সেই রাজনৈতিক নেতা তাহলে বিএনপি-র মতো একটা দলের দায়িত্ব নেবেন কি ভাবে…সবথেকে বড় কথা ওই রাজনৈতিক নেতা দেশের জন্য কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন…

খুব সম্প্রতি বিএনপি-র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে দেশে ফিরবেন। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আগেও তো একাধিক বার বিএনপি নেতারা বলেছেন ৫ অগাস্ট দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, আবার কখনও বলেছেন ৭ নভেম্বর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান আর এখন বলছেন তফসিলের আগে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান…তাহলে একাধিক তারিখের কথা উল্লেখ করে বা সমর্থকদের একাধিক তারিখ দিয়ে প্রতারনা করছেন কি তারেক রহমান সমর্থকদের সঙ্গে…না কি বিএনপি নেতারা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার জন্য নিজেরাই নিজেদের মতো তারিখ দিচ্ছেন.. কিন্তু বিষয়টা সত্যিই কি তাই,,, তারেক রহমান সত্যিই আর কোনওদিনও কি দেশে ফিরবেন.. এই সন্দেহ দানা বাঁধছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে..আর এই সন্দেহ যদি সত্যি হয় তাহলে অনেক হিসাব বদলে যাবে বাংলাদেশের রাজনীতির..তাহলে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে কাতারের আমিরের পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন নিয়ে যাওয়া আসলে কি মুখ রক্ষা.

তফসিলের আগে যদি তারেক রহমান দেশে না ফেরেন, তাহলে তিনি ভোটার হতে পারবেন না,..আর ভোটার না হতে পারলে তিনি নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবেন না,..এটাই স্বাভাবিক…ফলে তারেক রহমান ফেরা না ফেরার একটা রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে.. ২০০৮ সালের বাংলাদেশে এক এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সেপ্টেম্বর মাসে সস্ত্রীক লন্ডন যান তারেক রহমান চিকিতসার জন্য়,..ফলে এক এগারোর সরকারের সময় যে ভোটার তালিকা হয় সেই তালিকায় নাম তোলা সম্ভব হয়নি তারেক রহমানের..আর এখন ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে বা তারেক রহমানকে ভোটার হতে হলে, তফসিলের আগে দেশে ফিরতেই হবে,..কারন  তারেক রহমান এখন আর বাংলাদেশের নাগরিক নন, বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রামান পাসপোর্ট সেটা তিনি ২০১২ সালে জমা দিয়ে লন্ডনের নাগরিকত্ব নিয়েছেন,,যেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন..তবে ইউনুস সরকার আমেরিকা বা লন্ডনে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে…কিন্তু তারেক রহমান সেই সুযোগও কাজে লাগাননি..তিনি লন্ডনে থেকেও ভোটার হওয়ার কোনও চেষ্টাই করেননি..তাহলে কি চাইছেন তারেক রহমান..দেশে ফিরে ভোটার হতে চাইছেন কি…ইতিমধ্যে বিএনপি-র তরফে যে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়াকে ৩টি আসনের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে আর তারেক রহমানকে একটি আসনে প্রার্থী করেছে দল..কারন তারেক রহমানের উপর অনেকটা নির্ভর করবে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে কতটা জোশ দিয়ে লড়াই করবে…কিন্তু নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে খালেদা জিয়াকে প্রার্থাী করে বিএনপি নেতৃত্ব এটা বোঝাল এখনও দল খালেদা জিয়াকে সামনে রেখেই লড়াই করছে।