পিতৃপক্ষের অবসান, মাতৃপক্ষের সূচনা। অন্নপূর্ণা যোজনার পঞ্চম কিস্তির টাকা মিলবে কবে। অধীর আগ্রহে বসে এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা। এমনকি যাঁদের স্ট্যাটাস অ্যাপ্রুভ হয়ে আছে তাঁরাও অধীর আগ্রহে আছেন আদৌ কি এবার হাতেগরম তিন হাজার টাকা মিলবে। তাহলে তো দুর্গাপুজোয় এক্সস্ট্রা আনন্দ। এবার কত বাড়বে এই প্রকল্পের উপভোক্তার সংখ্যা। উৎসবের মরশুমে এখনও অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? এইমাসে কবে ঢুকবে টাকা? সেই নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগের শেষ নেই। এমনিতেই পুজোর মাস। কেনাকাটা করে পকেট গড়ের মাঠ। তাই অ্যাকাউন্টে যদি ঢোকে কড়কড়ে তিন হাজার টাকা। তাহলে তো কোনও কথায় নেই। ফলে সবারই মনে একটাই প্রশ্ন এখন কবে ঢুকবে অক্টোবর মাসের টাকা?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
অন্নপূর্ণা যোজনায় রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নভেম্বর মাসে ফের পোর্টাল খুলে যাবে। নতুন করে আবেদন পত্র গ্রহণ করা হবে। এদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিলেছে চতুর্থ কিস্তির টাকা। তবে অক্টোবরে পঞ্চম কিস্তির টাকা কবে মিলবে সেই নিয়ে মহিলাদের মধ্যে বেশ কৌতূহল রয়েছে। মনে করা হচ্ছে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে যেহেতু পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে ফলে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই প্রকৃত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে টাকা।এদিকে অক্টোবর মাসে ঠিক কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তা নিয়ে সর্বত্র উঠেছে প্রশ্ন। যদিও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে টাকা ছাড়া শুরু হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের কিস্তির টাকা ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোরকদম প্রশাসনিক স্ক্রিনিং ও রি-ভেরিফিকেশন। এর ফলে অনেকেই এবার টাকা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। যদিও পুজোর মাস তাই প্রকল্পের টাকা এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ঢুকে যাবে বলে আশা করেছেন অনেকেই। আপাতত ১০ তারিখের পর জানা যাবে অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা ঢুকবে কবে।
এদিকে জানা যাচ্ছে, ফের শুরু হয়েছে যাচাই পর্ব। যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের নথি ফের যাচাই হচ্ছে। প্রকল্প চালুর পর থেকেই অভিযোগ উঠেছিল যে বহু আবেদনকারী আসল তথ্য গোপন করে কিংবা ভুল নথি প্রদান করে আবেদনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বহু উপভোক্তা একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। যার ফলে সরকারি পোর্টালে প্রশাসনিক জটিলতা ও দ্বৈত আবেদনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে জমা পড়া মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদনের মধ্যে প্রাথমিক স্ক্রিনিং ও স্ক্রুটিনির পর ইতিমধ্যেই প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদন পত্র বাতিল করা হয়েছে। এর পরও বহু যোগ্য মহিলা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতএব যে যাচাই পর্ব ফের শুরু হয়েছে তাতে অনেকেই বাদ যেতে পারেন এই প্রকল্প থেকে। এমনও হতে পারে চুতুর্থ কিস্তির টাকা পেয়েছেন আর আপনি যদি যোগ্য না হন তাহলে পঞ্চম কিস্তির টাকা না পেতেও পারেন। প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারাই কেবল এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু নথিপত্র এবং পারিবারিক তথ্য পুনরায় মিলিয়ে দেখার পর বাদ যেতে পারেন সরকারি চাকরি ও পেনশনভোগীরা। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারে যদি কেউ স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত সরকারি বেতন পান কিংবা সরকারি পেনশনভোগী হন। যে সকল ব্যক্তি বা পরিবার নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন কিংবা আয়কর দেওয়ার উপযুক্ত। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে যদি সক্রিয় জিএসটি নম্বর থাকে।