পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-এর নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি জেলেই মৃত্যু হয়েছে ইমরানের। কী বলছে পাক জেল কর্তৃপক্ষ ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: সত্যিই কি মৃত্যু হয়েছে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ? পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর নেতা-কর্মীরা অন্তত এমনই দাবি করছেন। একই দাবি করা হয়েছে আফগান টাইমস নামক এক আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যমও। তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সেই খবর।
এই আবহে এবার বিবৃতি জারি করা হল পাকিস্তানের আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষের তরফে। সেই আদিয়ালা জেলেই ২০২৩ সাল থেকে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইমরান। জেলের মধ্যে ইমরান খানের মৃত্যু হয়েছে, এই খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ। এমনকি গোপনে ইমরান খানকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সেই খবরও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ।
এই প্রসঙ্গে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “আদিয়ালা জেলেই রয়েছেন ইমরান খান। পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন তিনি। সমস্ত ধরণের চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাচ্ছেন। ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর সত্য নয়।”
ইমরানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুখ খুলেছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের যে কর্মীদের জন্য এই খবর ছড়িয়েছে, তাদেরকে বিঁধে মন্ত্রী জানিয়েছেন, “ইমরান খান জেলে আছেন এবং ভালোই আছেন।
তাঁর জন্য জেলে যা খাবার আসে সেই খাবার কোনও পাঁচতারা হোটেলেও পাওয়া যায় না। এখানেই শেষ নয়, জেলে ইমরান টিভিতে নিজের পছন্দের চ্যানেলও দেখতে পান। আমরা যখন জেলে ছিলাম তখন ঠান্ডা মেঝেতে শুতাম। কষ্ট হলেও জেলের খাবার খেতাম। জানুয়ারি মাসেও আমাদের মাত্র দুটো কম্বল দেওয়া হত। গরম জল দেওয়া হত না। আর ইমরান খানের জন্য শীতের মরসুমে চওড়া খাটের বন্দোবস্ত রয়েছে। তাঁকে পশমের কম্বলও দিচ্ছেন জেল কর্তৃপক্ষ।”

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তাঁর পরিবার পরিজনরা। ১৯ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছিলেন তাঁর তিন বোন— আলিমা, উজমা এবং নুরা খান। প্রতিবাদে ধর্না দিলে তাঁদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। পিটিআই নেতাদেরকেও ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তারপরই ইমরান খানকে নিয়ে জল্পনা ছড়াতে থাকে। জেলের মধ্যেই ইমরানকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে।
২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ইমরান খান। চলতি বছরে আল কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ইমরানকে ১৪ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছে আদালত। স্ত্রী বুশরা বিবিরও সাজা হয়েছে।